" /> মাইক্রোবাস চাপা দিয়ে হত্যা, পরে সাজানো হয় দুর্ঘটনার নাটক: পিবিআই প্রধান – নাগরিক দৃষ্টি টেলিভিশন
রবিবার, ২৬ মার্চ ২০২৩, ০৬:২৪ অপরাহ্ন

মাইক্রোবাস চাপা দিয়ে হত্যা, পরে সাজানো হয় দুর্ঘটনার নাটক: পিবিআই প্রধান

WhatsApp Image 2023 02 09 at 16.51.06 min

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২১ সালের ১২ আগস্ট। নরসিংদীর শিবপুরের একটা খোলা এলাকায় বিপ্লব ও মনিরকে বহনকারী একটি মোটরসাইকেলকে মামুনের নেতৃত্বে একটি মাইক্রোবাস চাপা দেয়। এর মাধ্যমে হত্যা করা হয় বিপ্লব এবং মনিরকে। আর ঘটনাটিকে তারা সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করে। কিন্তু পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে এলো মূল রহস্য। পিবিআই বলছে, ব্যবসায়িক শত্রুতা থেকে মামুনের নেতৃত্বে বিপ্লবকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরে মূল পরিকল্পনাকারী মামুন মিয়া, মাসুম, সোহাগ ও মাসুদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার।

সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই প্রধান বলেন, শাহন শাহ আলম বিপ্লব ও মনির হোসেন। বিপ্লব এলাকায় একাধিক হত্যা মামলার আসামি আর মনির তার বডিগার্ড। বিপ্লব এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব তৈরি করলেও তার বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পেত না। এই বিপ্লব শুধু খুন করেই ক্ষান্ত হয় না, যারা তার বিরুদ্ধে সাক্ষী দেয় তাদের বিরুদ্ধেও প্রতিশোধ নেয় সে। কিন্তু তারও শেষ রক্ষা হয়নি। এক সময় তার সঙ্গে ডিস ব্যবসা করা মামুন নামে এক ব্যক্তি অন্যদের নিয়ে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। বেশ কয়েকবার হতে চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হয়। অবশেষে মাইক্রোবাসে চাপা দিয়ে হত্যার পর নাটক সাজায় সড়ক দুর্ঘটনার। সেই নাটকের ধোপে টেকেনি। পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে আসে সেই হত্যার রহস্য। এই ঘটনায় রহস্য উদঘাটনসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই।

সংবাদ সম্মেলনে বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ২০১৯ সালে নরসিংদীর রায়পুরায় দুলাল গাজী নামে এক ব্যক্তিকে প্রকাশ্য কুপিয়ে ও গলাকেটে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় মামলা হলে প্রধান আসামি বিপ্লবকে করা হয়। কিন্তু মামলার বিষয় প্রকাশ্যে কেউ কোন কথা বলতে সাহস পেত না। কিছুদিন পরে এই মামলার বাদি দুলাল গাজীর ছেলে রবিন গাজী একটি ঘর পোড়া মামলায় ছয় মাস জেল খেটে আসে। একসময় পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন মামলার তদন্ত পেলে তারা বিপ্লবকে গ্রেপ্তার করে। তখন আস্তে আস্তে অনেকে বিপ্লবের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে শুরু করে। এই ঘটনায় চার ব্যক্তি বিপ্লবের বিরুদ্ধে আদালতে সাক্ষী দেয়।

পিবিআই প্রধান বলেন, বিপ্লব জেল খেটে যেদিন বের হয়ে আসে ওই দিন সাক্ষীদের দুইজন জুয়েল ও নাইমকে এলাকায় ডাকাত সন্দেহে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

পিবিআই প্রধান বলেন বিপ্লব ও তার সহকর্মীদের এমন কর্মকান্ডে এলাকার অনেকে ক্ষিপ্ত হয়। এর মধ্যে এক সময় বিপ্লবের সঙ্গে ডিসের ব্যবসা করা মামুন মিয়া তার সহযোগীদের নিয়ে বিপ্লবকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করে। তারা একাধিকবার বিপ্লবকে হত্যা চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। সর্বশেষ ২০২১ সালের ১২ আগস্ট রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে নরসিংদীর শিবপুরের এটা খোলা এলাকায় বিপ্লব ও মনিরকে বহনকারী একটি মোটরসাইকেলকে মামুনের নেতৃত্বে একটি মাইক্রোবাস চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে বিপ্লব ও মনির মারা যায়। ঘটনাটিকে তারা সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে চালানোর চেষ্টা করে। এ ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশ একটি দুর্ঘটনার মামলা করে এবং সে হিসেবে তারা আদালতে প্রতিবেদন দেয়।

হাইওয়ে পুলিশের দেওয়া প্রতিবেদনের উপর ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হলে তারা আদালতে নারাজি দেন এবং মামলাটিকে পুনঃতদন্তের আবেদন করেন। তখন পিবিআই নতুন করে তদন্ত করতে গিয়ে জানতে পারে যে মাইক্রোবাসটি দিয়ে তাদের চাপা দেওয়া হয়েছিল সেটিতে বেশ কয়েকজন যাত্রী ছিল। পিবিআইয়ের তদন্ত কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলো সাধারণত দুর্ঘটনার পরে চালক পালিয়ে যায়, কিন্তু এখানে কেন যাত্রীরা পালিয়ে গেল। পরে তার অনুসন্ধানীকে এটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে ক্লু পায়। ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে এর সঙ্গে মামুন ও তার সহযোগীদের সম্পৃক্ততা পায়। পিবিআই অনুসন্ধানে জানতে পারে যে, পূর্ববর্তী ব্যবসায়িক শত্রুতা থেকে মামুনের নেতৃত্বে বিপ্লবকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরে মূল পরিকল্পনাকারী মামুন মিয়া, মাসুম, সোহাগ ও মাসুদ মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডের বিবরণ দেয় এবং আদালতে দায় স্বীকার করে।

পিবিআই প্রধান বলেন, এ ঘটনায় নয়জনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। এরমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অর্থদাতা হিসেবে ওমর ফারুক মোল্লা নামে এক প্রবাসীর নাম উঠে এসেছে। তার সম্পৃক্ততার বিষয়টি অনুসন্ধান চলছে। আগামী সপ্তাহে নয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা