" /> ফ্রি ফায়ার গেম খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন – নাগরিক দৃষ্টি টেলিভিশন
বুধবার, ২২ মার্চ ২০২৩, ১২:২৫ অপরাহ্ন

ফ্রি ফায়ার গেম খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন

WhatsApp Image 2023 02 01 at 16.04.44

10 / 100

নিজস্ব প্রতিবেদক: ফ্রি ফায়ার খেলায় ভুক্তভোগী কিশোর সাব্বির তার প্রতিপক্ষ ফেরদৌসের কাছে পরাজিত হয়। এই পরাজয় সহ্য করতে না পেরে তাকে হয়ে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। আর ফেরদৌস সেই গালিগালাজের উপযুক্ত প্রতিশোধ নেওয়ার কারণে গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ^াসরোধ করে সাব্বিরকে হত্যা করে। বাগেরহাটের পিবিআই, এই ঘটনায় অভিযুক্ত ফেরদৌসকে গ্রেপ্তার পিবিআই। হত্যার পর সাব্বিরের লাশ গ্যারেজের খাটের পাশে কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখে।


ফ্রি ফায়ার গেম খেলাকে কেন্দ্র করে বন্ধুর হাতে খুন হওয়া কিশোর সাব্বির হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে বাগেরহাট জেলা পুলিশ ব্যুরো ইনভেশটিগেশন (পিবিআই)। ঘটনার সাথে জড়িত কিশোর ফেরদৌসকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। সোমবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও থানার মেঘনা ব্রীজের সামনে এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।


বুধবার দুপুরে বাগেরহাট জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার আব্দুর রহমান তার গ্রেপ্তারের বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।


নিহত সাব্বির শেখ পাতলা টু তেরখাদা রাস্তায় বেশির ভাগ সময় ভ্যান চালাত। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি সকাল ১০ টার দিকে ভ্যান চালানোর জন্য বাড়ি থেকে ভ্যানসহ বাইরে যায়। ওইদিন বিকাল আড়াইটার দিকে সাব্বিরের মা তাকে ফোন দিয়ে বাড়ি আসার কথা বললে, সাব্বির তার মাকে,“আমি ভাড়া নিয়ে পাতলা টু তেরখাদা যাচ্ছি, আসরের দিকে বাড়ি আসব।” সন্ধ্যা হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও সাব্বির বাড়িতে না আসলে, মোবাইলে কল করলে তার নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। অনেক খোঁজাখুজি করে না পেয়ে সাব্বিরের বাবা শেখ বোরহান ১১ জানুয়ারি তেরখাদা থানায় একটি সাধারন ডায়রি করেন।


১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টার দিকে সাব্বিরের বাবা জানতে পারেন যে, বাগেরহাটের মোল্লাহাট থানার ছোট কাচনা গ্রামের ওমরের মোড়ের সামনে শেখ ওবায়দুর রহমানের নির্মিত গোডাউনের নিচে ফাঁকা জায়গায় একটি পঁচাগলা লাশ পড়ে আছে। স্থানীয় লোকজন মোল্লাহাট থানায় সংবাদ দিলে থানা পুলিশ ওই জায়গায় উপস্থিত হয়ে মৃত দেহ দেখতে পান। সাব্বিরের বাবাসহ তার আত্মীয় স্বজন সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে মৃত দেহ দেখে লাশ সনাক্ত করেন। অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা ভুক্তভোগী সাব্বিরকে হত্যা করে তার কাছে থাকা ব্যাটারী চালিত ভ্যান ও সাথে থাকা একটি এন্ড্রোয়েড মোবাইল ফোন নিয়ে চলে যায়। ওই ঘটনায় নিহত সাব্বিরের বাবা মোল্লাহাট থানায় একটি মামলা করেন। মোল্লাহাট থানার মামলা নম্বর-১২, ধারা-৩০২/২০১/৩৭৯/৩৪ পেনাল কোড।
নিহত সাব্বির খুলনা জেলার তেরখাদা থানার কুশলা গ্রামের শেখ বোরহানের ছেলে।


পিবিআইয়ের ভাষ্যমতে, থানা পুলিশের পাশাপাশি পিবিআই মামলাটির তদন্ত চলমান রাখে। মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিল ভূক্ত হওয়ায় ৩০ জানুয়ারি পিবিআই মামলাটি স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করে। আর পুলিশ পরিদর্শক (নি.) আশরাফুল আলম মামলাটির তদন্তের কাজ শুরু করে। মামলার রহস্য উদঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তারের জন্য পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদারের দিক-নির্দেশনায় এবং পিবিআই বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. আবদুর রহমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে পুলিশ পরিদর্শক (নি.) জনাব আশরাফুল আলমকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি টিম গঠন করা হয়।


পিবিআই বলছে, তদন্তের এক পর্যায়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক (নি.) আশরাফুল আলমের নেতৃত্বে পিবিআই বাগেরহাটের একটি তদন্ত টিম ঘটনার সাথে জড়িত আইনের সাথে সংঘাতে জড়িত মো. ফেরদৌসকে নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও থানার মেঘনা ব্রীজের সামনে এলাকা থেকে সোমবার বিকাল সাড়ে তিনটার দিকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে। পরে তার দেখানো মতে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত গামছা, ভুক্তভোগী সাব্বিরের ভ্যান গাড়ি ও এন্ড্রোয়েড মোবাইল ফোনের অংশ বিশেষ উদ্ধার করা হয়।


গ্রেপ্তারকৃত ফেরদৌসের বরাত পিবিআই জানায়, ফ্রি ফায়ার খেলায় সাব্বির ফেরদৌসের কাছে পরাজিত হয়ে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে। ফেরদৌস তার উপযুক্ত প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিজ্ঞা করে। পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক গত ৯ জানুয়ারি বেলা পৌনে তিনটার দিকে শিশু বায়জিদের মাধ্যমে সাব্বিরকে ডেকে নিয়ে আসে। গ্যারেজের মধ্যে বসে সাব্বির গেম খেলা অবস্থায় ফেরদৌস পিছন থেকে গামছা গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ গ্যারেজের খাটের পাশে কম্বল দিয়ে ঢেকে রাখে। আর সাব্বিরের ভ্যান গাড়িটির ছোট ছোট করে ভাঙ্গারীর ক্রেতার কাছে বিক্রি করেছে। আর চারটি ব্যাটারি আলামিনের ভ্যানে করে নিয়ে গিয়ে এখলাছের ভাঙ্গারীর দোকানে বিক্রি করে।

গত ১০ জানুয়ারি রাত দ্ইুটার দিকে শেখ ওবায়দুর রহমানের নির্মিত গোডাউনের নিচে লাশ ফেলে দিয়ে আর্বজনা দিয়ে ঢেকে রাখে। পরের দিন সকালে নারায়নগঞ্জে চলে যায়।


এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রহমান বলেন, মামলাটি পিবিআইয়ের তফসিল ভূক্ত হওয়ায় আমরা মামলাটি স্ব-উদ্যোগে গ্রহণ করি। আমরা ঘটনার সাথে জড়িত কিশোর মো. ফেরদৌসকে আটক করি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ফেরদৌস আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।


গ্রেপ্তারকৃত মো. ফেরদৌস বাগেরহাট জেলার সদর থানার ডিংসাইপাড়া কোড়ামারা গ্রামের মো. মনিরুল সেখের ছেলে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা