" /> রসিক নির্বাচনে প্রস্তুত ইসি, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আশ্বাস – নাগরিক দৃষ্টি টেলিভিশন
মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন

রসিক নির্বাচনে প্রস্তুত ইসি, শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের আশ্বাস

photo 26 12 22 1 1 min

5 / 100

রংপর ব্যুরো: তৃতীয়বারের মতো ংপুর সিটি কর্পোরেশন (রসিক) নির্বাচন উপলক্ষে সব ধরনের প্রস্তুত সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ভোট কেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো শুরু হয়েছে। ভোটকেন্দ্র ও কক্ষে বসানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নেওয়া হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

সোমবার (২৬ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রংপুর পুলিশ লাইন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠ থেকে কেন্দ্রগুলোতে ইভিএমসহ অন্য সরঞ্জামাদি পাঠানোর কার্যক্রম শুরু হয়। নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন আনুষ্ঠানিকভাবে সরঞ্জামাদি বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। নির্বাচনী এলাকার ২২৯ কেন্দ্রের ১ হাজার ৩৪৯ কক্ষে নেওয়া হচ্ছে ইভিএমসহ অন্য নির্বাচনী সরঞ্জাম।

এছাড়া নির্বাচনের কাজে নিয়োজিত রয়েছেন প্রায় ৭ হাজার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য। থাকছে র‌্যাব ও বিজিবির পাশাপাশি এপিবিএন ও পুলিশের টহল গাড়ি। এই নির্বাচনে ২২৯ কেন্দ্রের মধ্যে ৮৬টিকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে রিটার্নিং কর্মকর্তা আবদুল বাতেন বলেন, আগামীকালের নির্বাচনও শান্তিপূর্ণ হবে। আমরা আপনাদের ওপর আস্থা রাখছি।

এটি মডেল নির্বাচন হবে। আমার দৃঢ বিশ্বাস আপনারা এই নির্বাচনে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্বে অবহেলা হলে ডিপার্টমেন্ট কোনো দায় নেবে না, কাজেই নির্বাচনী বিধির মেনে সবাইকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আর যদি কোনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যের বিরুদ্ধে কোনো নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে, তাহলে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে মাঠের পরিস্থিতি ঠিক রাখতে মাঠে ৪৯ জন নির্বাহী ও বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট কাজ করছেন। এর মধ্যে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রয়েছে ৩৩ এবং ১৬ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। এছাড়াও ১১ প্লাটুন বিজিবির সদস্যও কাজ করছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, ২২৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮৬টি কেন্দ্র অধিক গুরুত্বপূর্ণ। এসব কেন্দ্রে প্রয়োজনের তুলনায় অধিক সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। সবাই যাতে নির্বিঘেœ কেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন এর জন্য সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়েছে। ভোটার ছাড়া অন্য কেউ ভোটকক্ষের গোপন বুথে প্রবেশ করতে পারবেন না। প্রবেশ করলেই সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়বে এবং তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এর আগে সেখানে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীর প্রতিটি সদস্যেদের নিয়ম মেনে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার নুরে আলম মিনা বলেন, যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ ওঠে তাহলে ছাড় দেওয়া হবে না।

বিগত নির্বাচনগুলোতেও দায়িত্ব অবহেলায় কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি, এবারও দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া মাঠে সাদা পোশাকে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিয়োজিত থাকবে। নিরপেক্ষভাবে সার্ভিস রুল মেনে দায়িত্ব পালন করতে হবে। যদি কেউ এর ব্যতিক্রম ঘটানোর চেষ্টা করেন তার দ্বায়ভার প্রতিষ্ঠান নেবে না। আরপিএমপি কমিশনার বলেন, নির্বাচনে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে পুলিশ, এপিবিএন ও ব্যাটালিয়ন আনসার সমন্বয়ে প্রতিটি সাধারণ ওয়ার্ডে একটি মোবাইল ফোর্স থাকবে। এছাড়া প্রতি ৩টি সাধারণ ওয়ার্ডে একটি স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং প্রতি থানায় একটি করে রিজার্ভ স্ট্রাইকিং ফোর্স থাকবে। আর প্রতি ২টি সাধারণ ওয়ার্ডে একটি করে র‌্যাবের দল থাকবে। স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে ভোটকেন্দ্রের বাইরে র‌্যাব-পুলিশের টিম সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তায় সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে। আর গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রে ৪ জন অস্ত্রসহ পুলিশ, দুইজন অস্ত্রসহ অঙ্গীভূত আনসার ও ১০ জন লাঠিসহ অঙ্গীভূত আনসার-ভিডিপি সদস্য মোতায়েন থাকবে। এছাড়া ৩৩টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৩৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ১৬ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। পুলিশ সদস্যদের কারও কাছ থেকে কোনো খাদ্য গ্রহণ না করা আহ্বান জানিয়ে পুলিশ কমিশনার বলেন, এ ধরনের কোনো ছবি বা ভিডিও ভাইরাল হলে সেই সদস্যের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা