" /> যেভাবে রিকশা চুরি করতো চক্রটি – নাগরিক দৃষ্টি টেলিভিশন
মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন

যেভাবে রিকশা চুরি করতো চক্রটি

WhatsApp Image 2022 12 26 at 12.50.04

6 / 100

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর সবুজবাগ এবং খিলগাঁও এলাকা থেকে আন্ত:জেলা চোরচক্রের মূলহোতাসহ ছয়জনকে আটক করেছে র‌্যাব-৩। আটককৃতরা হলেন- মো. কামাল হোসেন কমল, মো. রাশেদ, মো. আলম হাওলাদার, মো. কাজল, মো. ফজলু এবং মো. সাজু। এ সময় তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন রংয়ের ব্যাটারী চালিত ১৪ টি অটো রিকশা ১৮ টি অটোরিকশার র চার্জার ব্যাটারী, ছয়টি মোবাইল ফোন, একটি চাবি এবং নগদ ৩৭০ টাকা উদ্ধার করা হয়।


সোমবার সকালে র‌্যাব-৩ এর স্টাফ অফিসার (মিডিয়া) ফারজানা হক এ তথ্য নিশ্চিত করেন।


র‌্যাবের ভাষ্য, সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ ও গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৩ এর একটি দল জানতে পারে যে, রাজধানীর খিলগাঁও ও সবুজবাগ এলাকায় বিভিন্ন গ্যারেজের ভিতরে কিছু সংঘবদ্ধ চোর চক্রের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে চোরাই ও ছিনতাইকৃত বিভিন্ন রংয়ের ব্যাটারী চালিত চোরাই রিকশা মজুদ করে। পরে এসব রিকশার রং পরিবর্তন করে বিক্রয় করে আসছে। এমন খবরের র‌্যাব-৩ এর একটি দল রবিবার দিবাগত রাত সোয়া একটার দিকে খিলগাঁও ও সবুজবাগ এলাকার বিভিন্ন গ্যারেজে অভিযান চালায়। অভিযানে সংঘবদ্ধ রিকশা চোর চক্রের মূলহোতা মো. কামাল হোসেন কমল, মো. রাশেদ, মো. আলম হাওলাদার, মো. কাজল, মো. ফজলু এবং মো. সাজুকে আটক করা হয়।

57 min


আটককৃত কমলের বরাত দিয়ে র‌্যাব জানায়, এই চক্রের মূলহোতা কমল। তিনি ১৫ বছর আগে কাজের সন্ধানে ঢাকায় এসে রিকশা চালানো শুরু করেন। একদিন তার রিকশাটি চুরি হয়ে যায়। পরে ওই রিকশার মালিক তার কাছ থেকে চুরি যাওয়া রিকশার দাম আদায় করে। কমল ধার করে ওই চুরি যাওয়া রিকশার দাম মালিককে পরিশোধ করে। ওই ধারের টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে তিনি চুরি যাওয়া রিকশা খুঁজতে থাকেন। তার চুরি যাওয়া রিকশা খুঁজতে গিয়ে অপরাধ জগতের সদস্যদের সাথে তার পরিচয় হয়। এরপর কমল নিজেই রিকশা চুরিকে তার পেশা হিসেবে বেছে নেন। তিনি ১২ বছর ধরে রিকশা চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি করে আসছেন। প্রথমে কমল নিজেই একা রিকশা চুরি করতেন। তিনি নতুন রিকশায় উঠে রিকশা চালককে বিষাক্ত কোমল পানীয় খেতে দেন। রিকশা চালককে অজ্ঞান করে রিকশা নিয়ে পালিয়ে যেতেন। আবার কখনও রিকশা চালক কোমল পানীয় খেতে রাজি না হলে তার নাকের কাছে চেতনানাশক ভিজানো রুমালের ঘ্রাণ দিয়ে অজ্ঞান করে রিকশা চুরি করতেন। এরপর তিনি রিকশা চুরির জন্য একটি চক্র গড়ে তোলেন।


র‌্যাব জানায়, এই চক্রটি অভিনব কায়দায় রিকশা চুরি করত। তারা রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় রিকশা নিয়ে ঘুরে বেড়াত। আটক সাজু ওই রিকশা চালিয়ে যেত। পথে নতুন রিকশা পেলে ওই রিকশার উপরে তারা নজরদারি করত। তারপর কমল রিকশা চালককে বলত সামনের রাস্তায় একটি বাসা থেকে আমার কিছু মাল তুলবো। ওই মালগুলো কাছাকাছি আরেকটি বাসায় পৌঁছে দিলে তাকে নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে কয়েক গুন বেশি ভাড়া দেওয়ার প্রস্তাব দিত। আর রিকশা চালকের কাছ থেকে তার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করত। বেশি ভাড়া পাওয়ার লোভে সহজ সরল রিকশা চালক তার কথায় রাজি হয়ে যেত। তারপর তার সুবিধামত একটি বাসার সামনে রিকশা থামিয়ে চালককে বলত আপনাকে বাসার ভিতরে ঢুকে মালামাল নিয়ে আসতে হবে। রিকশা চালক বাসার ভিতরে ঢোাকামাত্র ওই চক্রের অপর সদস্য ফজলু গাড়ি নিয়ে ওই জায়গা থেকে দ্রুত পালিয়ে যেত। তারপর কমল মালামালসহ রিকশা চালককে নিয়ে আসলে রাস্তায় রিকশা না পেয়ে ওই চালক হাউমাউ করে কান্না শুরু করত। তখন কমল রিকশা খোঁজার নাম করে তাদের চক্রের রিকশা নিয়ে ওই জায়গা থেকে পালিয়ে যেত। এরপর এসব চুরি যাওয়া রিকশা রাশেদ, আলম হাওলাদার ও কাজল একটি গ্যারেজে নিয়ে লুকিয়ে রাখত। তারপর রিকশার মালিককে ফোন দিয়ে মুক্তিপণ দাবি করত। মুক্তিপণের টাকা বিকাশের মাধ্যমে আদায় করত। এরপর একটি অজ্ঞাত জায়গায় রিকশা রেখে মালিককে রিকশা নিয়ে যেতে বলত। এই কৌশলে রিকশা চুরি করার পর তিনি তার সহযোগীসহ একাধিকবার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে আটক হয়েছেন।


এইভাবে চক্রটি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিগত সাত বছর ধরে ৫০০ এর বেশি ব্যাটারী চালিত রিকশা চুরি ও ছিনতাই করে গরীব ও নিরীহ চালক ও মালিকদের সর্বশান্ত করে আসছে। এসব রিকশা তারা পাঁচ হাজার থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রয় করত। আটক কমলের বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় আটটি চুরি মামলা এবং ফজলুর নামে একটি চুরি ও একটি মাদক মামলা রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা