" /> প্রলোভন দেখিয়ে তাদের জঙ্গি ক্যাম্পে নেওয়া হয়: সিটিটিসি – নাগরিক দৃষ্টি টেলিভিশন
মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ০৩:৩২ পূর্বাহ্ন

প্রলোভন দেখিয়ে তাদের জঙ্গি ক্যাম্পে নেওয়া হয়: সিটিটিসি

WhatsApp Image 2022 12 22 at 13.35.47 min

10 / 100

নিজস্ব প্রতিবেদক: নতুন জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল আনসার ফিল হিন্দাল শারকীয়ার দুই সদস্যকে গ্রেফতারের পর তাদের সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তাদের প্রলোভন দেখিয়ে জঙ্গি কার্যক্রমের দুর্গম পাহাড়ের ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের (সিটিটিসি) প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান।

বৃহস্পতিবার (২২ ডিসেম্বর) দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই কথা জানান।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- সাইফুল ইসলাম তুহিন (২১) ও মো. নাঈম হোসেন (২২)।

সিটিটিসি প্রধান বলেন, কুকি-চিনের সাহায্যে নতুন জঙ্গি সংগঠন পার্বত্য অঞ্চলে প্রশিক্ষণ ক্যাম্প তৈরি করেছিল। প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালায়। অভিযানের ফলে তারা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। অভিযানে নতুন জঙ্গি সংগঠনটির অনেক সদস্য গ্রেফতার হয়, অনেকে আবার গ্রুপে গ্রুপে পাহাড়ে অবস্থান নেয়। আবার কেউ কেউ সমতলভূমিতে ফিরে আসার চেষ্টা করে এবং পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পাহাড় থেকে সমতলে আসা এমনই দুই জঙ্গিকে গ্রেফতার করে সিটিটিসি। তারা দুজন পাহাড়ের ক্যাম্পে প্রায় এক বছর প্রশিক্ষণ নিয়েছিল।

আসাদুজ্জামান জানান, গত বছর ১৫ নভেম্বর সাইফুল ইসলাম তুহিন তাবলিগে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন। একই বছর ২৭ নভেম্বর তার পরিবারের পক্ষ থেকে সিলেটের ওসমানীনগর থানায় একটি জিডি করা হয়। তিনি কওমি মাদরাসায় ক্লাস নাইন পর্যন্ত পড়াশোনা করে ওসমানীনগরের দয়ামীর নামক স্থানের একটি কমিউনিটি সেন্টারে নাইট গার্ডের চাকরি নেন।

গ্রেফতার সাইফুল ইসলাম তুহিন স্থানীয় এক মাওলানার সাহচর্যে এসে হিজরতের সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ওই মাওলানাসহ স্থানীয় আরও দুজন গত ফজরের নামাজের পর যার যার বাড়ি থেকে বের হয়ে শেরপুর গোল চত্বরে একত্রিত হন। এরপর সিলেট থেকে আরও চারজনসহ মাইক্রোবাসে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। রাস্তায় গাড়িতে থাকা এজেন্ট তাদের দাড়ি কেটে দেয়, মোবাইল, এনআইডি, মানি ব্যাগ ও টাকা নিয়ে নেয়। এরপর তারা প্রথমে ঢাকা ফকিরাপুল আসে এবং বাসযোগে বান্দরবান পৌঁছে। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান গাড়িতে তাদের মতো আরও ১০ জন হিজরতকারী আছে। তাদের সবাইকে ভুয়া এনআইডি ও নাম দিয়ে প্রথমে থানচি ও পরে ১২ ঘণ্টা পাহাড়ি রাস্তায় হাঁটিয়ে কেটিসি নামক ক্যাম্পে নিয়ে যায়।

গ্রেফতার মো. নাঈম হোসেন ঢাকার শেরেবাংলানগরে এগ্রিকালচার ট্রেইনিং ইনস্টিটিউটে (এটিআই) কৃষি ডিপ্লোমাতে চতুর্থ সেমিস্টারে পড়তেন এবং সেখানকার হলে থাকতেন। গত বছর ২ অক্টোবর নিখোঁজ হন। পরদিন শেরে বাংলানগর থানায় একটি জিডি করা হয়। ২০২১ সালের প্রথম দিকে করোনার কারণে কলেজ বন্ধ হলে তিনি গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে চলে যান। এ সময় কোরআন শুদ্ধ করে পড়ার জন্য চাঁদপুরের একটি হাফিজিয়া মাদরাসায় ভর্তি হন। ওই মাদরাসার এক হুজুরের মাধ্যমে তিনি জিহাদের জন্য উদ্বুদ্ধ হন এবং এই সংগঠনে নাম লেখান।

সিটিটিসি জানায়, ২০২১ সালের মাঝামাঝি নাঈম ঢাকা চলে আসেন এবং গোপন অ্যাপসের মাধ্যমে তাদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখেন। গত বছর ২ অক্টোবর সকাল ৮টার দিকে তিনি হিজরতের উদ্দেশে হল ছেড়ে প্রথমে কুমিল্লা গিয়ে তার রিজুন্টারের কাছে যান। সেখানে বিভিন্ন সেফ হাউজে মাসাধিকাল অবস্থান করেন। নভেম্বরের ৮ থেকে ১০ তারিখে তিনিসহ আরও প্রায় ১২-১৩ জন কুমিল্লা বাস স্টপ থেকে বান্দরবানের বাসে উঠেন। সেখান থেকে তারা চান্দের গাড়ি করে প্রথমে থানচি পৌঁছেন। পরে বান্দরবানে তাদের সহযোগী কেএনএফ সদস্যরা রিসিভ করেন। থানচি থেকে প্রায় এক ঘণ্টা চাঁন্দের গাড়িতে গিয়ে তারপর প্রায় ১০ ঘণ্টা হেঁটে কেটিসি ক্যাম্পে পৌঁছেন। তারা এই ক্যাম্পের দ্বিতীয় হিজরতকারী দল।

পরবর্তী সময়ে এ বছর অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে কেএনএফ তাদের জানায় যে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের ক্যাম্প আক্রমণ করতে পারে। ১০ অক্টোবর রাত তিনটার দিকে কেএনএফ কমান্ডার এসে তাৎক্ষণিক তাদের ক্যাম্প ছেড়ে যেতে বলেন। তারা দ্রুততর সময়ে ক্যাম্প ছেড়ে কয়েক ঘণ্টা হাঁটার দূরত্বে একটি জঙ্গলে অবস্থান নেন। প্রায় খাবার ও পানীয়হীন অবস্থায় এভাবে দুই দিন চলে গেলেও কেএনএফ আর ফেরত না এলে তারা বাধ্য হয়ে আবার সিপ্পি ক্যাম্পে ফেরত আসেন। সেখানে রাতেই তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের মুখে পড়লে ২১ ও ৩২ জনের দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে ২৯ জনের গ্রুপ ক্যাম্পে অবস্থান করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রতিহত করার চেষ্টা করে।

অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান জানান, সিলেট থেকে হিজরত করা সাইফুল ইসলাম তুহিনসহ চারজনকে জঙ্গি ক্যাম্পে নির্যাতন করা হতো। পরে পাহাড় থেকে পালিয়ে আসেন তারা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা