" /> ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের হামালার পর স্থল অভিযান চালানোর আশঙ্কা – নাগরিক দৃষ্টি টেলিভিশন
শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩, ১০:১৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ

ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের হামালার পর স্থল অভিযান চালানোর আশঙ্কা

711554 131

7 / 100

রাশিয়া নতুন করে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে বড় ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামালা চালিয়েছে। রাজধানী কিয়েভ ছাড়াও হামলা চালানো হয়েছে দক্ষিণের ওডেসা ,মধ্যাঞ্চলীয় ক্রিভি রিহ এবং উত্তরের খারকিভ শহরে।

ইউক্রেনের জ্বালানি মন্ত্রী বলছেন, সারা দেশে প্রায় ন’টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রে আক্রমণ করা হয়েছে।এসব ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনও পরিষ্কার নয়। জ্বালানি মন্ত্রী বলছেন, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য কয়েকটি দল কাজ করছে।

কর্মকর্তারা বলছেন, মূলত ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।

তবে ইউক্রেনের জাতীয় জ্বালানি কোম্পানি এক বিবৃতিতে বলেছে যে সারা দেশে তাদের যতো গ্রাহক আছে তাদের অর্ধেকেরও বেশি এসব হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইউক্রেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা বলেছেন, দেশটির বিভিন্ন শহরে ৬০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
ইউরি সাক বলেছেন, “এসব হামলা আকস্মিকভাবে ঘটেনি। এর ব্যাপারে আমরা কয়েক সপ্তাহ ধরে সতর্ক করে দিচ্ছিলাম। এবং এসব হামলাই শেষ নয়।”

তিনি বলেন, জরুরি বিভাগগুলো বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি “খুব কঠিন।”
তিনি বলেন রাশিয়া যখন রণক্ষেত্রে পরাজিত হচ্ছে, তখন গত দু’মাস ধরে তারা এই কৌশল নিয়েছে।
“তারা এমন পরিস্থিতি তৈরি করতে চায় যাতে ইউক্রেন সমঝোতায় যেতে বাধ্য হয়। কিন্তু সেরকম কিছু হবে না। তাদের এই কৌশল কাজ করবে না।”
তিনি বলেন, এসব হামলা পশ্চিমাদের কাছে এই বার্তা পাঠিয়েছে যে বিভিন্ন শহর রক্ষার জন্য ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন প্রেসিডেন্ট পুতিন পুরো ইউক্রেন নিয়ন্ত্রণ করতে চান।”

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন রাশিয়ার হামলায় ক্রিভি রিহ শহরে দুজন নিহত হয়েছে। দক্ষিণের খেরসন শহরেও একজন প্রাণ হারিয়েছেন। হামলার ফলে শহরের একটি আবাসিক এলাকায় বেশ কিছু অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে আগুন ধরে যায়।

রাজধানী কিয়েভে বেশ কিছু বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। কর্তৃপক্ষ বলছে এসব হামলার কারণে পানির সরবরাহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে মেট্রো সার্ভিসও। জানা গেছে ওডেসা শহরের পরিস্থিতিও একই রকমের।
ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভেও বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। ফলে এই শহর এখন বিদ্যুতহীন। খারকিভের মেয়র টেলিগ্রামে এক পোস্টে বলেছেন তার শহরে “বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি” হয়েছে। তবে তিনি তার বাসিন্দাদের ধৈর্য ধরার আহবান জানিয়ে বলেন, “আমি জানি আপনাদের বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই, হিটিং নেই, পানির সরবরাহ নেই।”

ইউক্রেনে প্রচণ্ড ঠাণ্ডার মধ্যে যখন তাপমাত্রা কমে যাচ্ছে তখন রাশিয়া দেশটির জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর তাদের হামলা বাড়িয়ে চলেছে।

ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, আগামী বছরের শুরুতে রাশিয়া বড় ধরনের স্থল অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে বলে তারা আশঙ্কা করছেন। ঊর্ধ্বতন জেনারেলরা বলছেন পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চলে, দক্ষিণে, এমনকি রাজধানী কিয়েভ অভিমুখেও এসব অভিযান হতে পারে।

ব্রিটেনের ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা এডমিরাল স্যার টনি রাডাকিন বলেছেন মস্কোর জন্য এই যুদ্ধ আরো কঠিন হয়ে পড়বে কারণে তাদের গোলাবারুদের ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
তবে পশ্চিমা বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থলপথে রাশিয়ার সফল অভিযান পরিচালনার ক্ষমতা ক্রমশই দুর্বল হয়ে আসছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা