" /> রোকেয়ার বাস্তভিটা ধংসের দ্বার প্রান্তে – নাগরিক দৃষ্টি টেলিভিশন
শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৭:১০ পূর্বাহ্ন

রোকেয়ার বাস্তভিটা ধংসের দ্বার প্রান্তে

ROKEYA 2 1

8 / 100

রংপুর ব্যুরো: প্রতিবছর ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবস পালন করা নিয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্তাদের শুরু হয় দৌড়ঝাপ । এক মাস আগে থেকে চলে ধোয়া মোচা রং বার্নিশ করা আর পরিস্কার করার কাজ। অনুষ্ঠিত হয় সপ্তাহ ব্যাপি আলোচনা সভা সেমিনার আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আরও কত কিছু। চলে বড় বড় বক্তৃতা দেবার প্রতিযোগীতা এবং বেগম রোকেয়াকে বুকে ধারন কওে ঘুওে বেড়ানোর শপথ কিন্ত কদিন আর। রোকেয়ার স্মৃতিকে আরো জাগ্রত করার জন্য দেয়া হয় নানা ধরনের প্রতিশ্রুতি। কিন্তু বাস্তবে এর কোন প্রতিফলন নেই আর কবেই বা হবে তার প্রতিফলন এর উত্তর কারো জানা নেই।

বরং ধংস হতে বসেছে রোকেয়ার বাস্তভিটা আর স্মৃতি কেন্দ্র।নারী জাগরনের অগ্রদুত মহীয়সী বেগম রোকেয়া জন্মগ্রহন করেছিলেন ১৮৮০ সালে রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে। তার স্মৃতিকে ধরে রাখা, সুবিধা বঞ্চিত নারীদের পুর্নবাসন এবং রোকেয়ার জীবন আর রচিত গ্রন্থ নিয়ে গবেষনা করার জন্য ৫ কোটি টাকা ব্যায়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্যেগে পায়রাবন্দে নির্মান করা হয় দৃষ্টিনন্দন বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র। ২০০১ সালে শেখ হাসিনা এ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন। এরপর তৎকালীন সময়ে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর স্মৃতি কেন্দ্রটির সকল কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। কর্মকর্তা কর্মচারীরা দীর্ঘ ১৪ বছর কোন বেতন ভাতা পায়নি।

ফলে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জবিন যাপন কাটিয়েছে।

অবশেষে গত কয়েক বছর থেকে আবারো চালু করা হয়েছে স্মৃতি কেন্দ্রটি কিন্ত আবার ৪ বছর ধরে বন্ধ। তবে শুধু গান শেখানো আর লাইব্রেরীতে স্বল্প ্ সংখ্যক বই ছাড়া আর কোন কার্যক্রম নেই। দুৃস্থ নারীদের সেলাই প্রশিক্ষন সহ বিভিন্ন কার্যক্রম বেগম রোকেয়াকে নিয়ে গবেষনা এসবের কিছুই বালাই নেই।

দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল ধরেছে নষ্ট হয়েং যাচ্ছে মুল্যবান জিনিষ পত্র। একই অবস্থা বেগম রোকেয়ার বাস্তভিটা আজ অবধি সেখানে কোন স্মৃতি সৌধ নির্মান করা হয়নি। অযত্নে অবহেলায় বাস্তভিটা এখন ধংসের দ্বার প্রান্তে। স্মৃতি কেন্দ্রে মাত্র দুজন কর্মকর্তার চাকুরী স্থায়ী হলেও দীর্ঘ ১৮ বছরেও চাকুরী স্থায়ী হয়নি দুই কর্মচারীর তারা দৈনিক মজুরী ভিত্তিতে বেতন পান যা দিয়ে তাদের সংসার চলছেনা ফলে পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর ভাবে দিন কাট কাটছে তাদের। বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদ পিয়ন কাম নাইট গার্ড আব্দুল বাতেন জানান,রক্ষাবেক্ষন না করার কারনে বেগম রোকেয়া স্মৃতি মুছে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যাক্তিগত উদ্যেগে বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রটি স্থাপন করা হলেও কোন উদ্যেগ নেই বরং নষ্ট হতে বসেছে স্থাপনা।

একই ভাবে বেগম রোকেয়ার বাস্তভিটাও ধংস হয়ে যাচ্ছে একই কথা বললেনবেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্রে গবেষক রফিকুল ইসলাম দুলাল। মিঠাপুকুর বেগম রোকেয়া স্মৃতি পায়রাবন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাহবুবার রহমান জানান,প্রতিবছর বেগম রোকেয়া আসে আর যায় কিন্ত রোকেয়ার জন্মভুমি পায়রাবন্দ এর কোন উন্নয়ন হয়না শুধু সভা সমাবেশ স্থলে আলোচনায় আলোচিত হয় বাস্তবে তার উল্টো বৈরাগীগঞ্জ থেকে রোকেয়ার বসত ভিটায় আসার একমাত্র ব্রিজটি হুমকির মুখে যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়ার আশংঙ্খা এবং বড় ধরনের নুর্ঘটনা হতে পারে।তাড়া বেগম রোকেয়ার যে দেহবাশেষ সেটি কলকাতা থেকে এখানে এনে পুর্নরায় সমাহিত করার উদ্যেগ এখনো বস্তাবন্ধি যার কোন উদ্যেগ নেই কারো।

তবে এলাকবাসীর প্রানের দাবী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরাসরি হস্তক্ষেপ পারে সকল সমস্যার সমাধান করতে । তিনি নজর দিলে বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র টিকা থাকা সম্ভব এমনটা মনে করেন শিক্ষাবীদ,রোকেয়া ভক্ত, সুশীল সমাজসহ এলাকার সাধারন মানুষ ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা