" /> অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত নওগাঁর মহাদেবপুর – নাগরিক দৃষ্টি টেলিভিশন
শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
খালেদা, তারেককে নিয়ে সময় টিভির প্রতিবেদন সম্পর্কে যা বললেন ফখরুল বিদ্যুতের দাম প্রতি মাসেই সমন্বয় করা হবে : প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাপী উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন : নাছিম বিআইডব্লিউটিএ’র অনুমোদন ছাড়া কোনো সেতু নয় : নৌ প্রতিমন্ত্রী সিলেটে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস- ২০২৩ উদযাপন সাংবাদিক আফতাব হত্যা : ৯ বছর ছদ্মবেশে ফাঁসির আসামি, অবশেষে গ্রেপ্তার বিদ্যার দেবী শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজা সাংবাদিক আফতাব হত্যা : ৯ বছর ছদ্মবেশে ফাঁসির আসামি, অবশেষে গ্রেপ্তার বার বার আদালতে আনা নেয়ায় অসুস্থ হয়েছেন রিজভী : ইউট্যাব ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার মূল হাতিয়ার হবে ডিজিটাল সংযোগ : প্রধানমন্ত্রী

অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত নওগাঁর মহাদেবপুর

Mohadevpur e1670332386466

8 / 100

শীতের হিমেল হাওয়ায় হাজার হাজার মাইল দূর থেকে উড়ে আসা হাজারো অতিথি পাখির কলকাকলিতে মুখরিত নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলা সদরের মধুবন, কলোনিপাড়া, কুঞ্জবন ও রামচন্দ্রপুর। শীতের হিমেল হাওয়ায় হাজার হাজার মাইল দূর থেকে উড়ে আসা হাজারো অতিথি পাখি । আত্রাই নদের বুকে বালিহাঁস, রাঙা ময়ূরী, ছোট স্বরালী নামক পরিয়াযী পাখির দেখা মিলছে। এসব পরিযায়ী পাখি নদীর স্বচ্ছ জরের সঙ্গে মিতালী করে দিনভর খুনসুটিতে মেতে থাকে।

জানা যায়, সারা বছরই এসব এলাকায় আত্রাই নদীতে নানা ধরনের পরিযায়ী ও দেশীয় প্রজাতির পাখির বিচরণ থাকে। তবে শীতকালে পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে বেশি। এ বছর নভেম্বর মাসের শুরু থেকে নানা জাতের পরিযায়ী পাখির কলরবে মুখর হতে থাকে নদীর বুক ও আশপাশের এলাকা। মাঝেমধ্যেই মুক্ত আকাশে ডানা মেলে ওড়াউড়ি করছে হাজারো পাখি। নদের তীরের গাছের ডালেও বসছে এসব পাখি।

নদীর তীরের পশ্চিম পাশে নদের পাশ দিয়ে পাকা বাঁধের রাস্তার দুই পাশে সারি সারি গাছ। পাখিদের কিচিরমিচিরে মুখর পুরো এলাকা।

সরেজমিনে দেখা যায়, মৌসুমি পাখিদের আরামে বসে থাকার জন্য আত্রাই নদীর পানিতে বেশ কিছু বাঁশ বেঁধে দেয়া হয়েছে। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি উড়ে এসে পানিতে পড়ছে। কেউ গা ভাসিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। কেউ গা পরিস্কার করছে। আবার কেউ বাঁশের উপর বসে আরাম করছে। পাখিদের কিচির মিচির শব্দে মুখরিত হয়ে উঠছে নদীর দু’পাড়। বালিহাঁস, সরালি হাঁস, পানকৌড়ি, রাতচোরা, বক, মাছরাঙ্গাসহ বিভিন্ন প্রজাতির হাজারো পাখির বিচরণ। মনোরম এ পরিবেশ যে কাউকে মুগ্ধ করবে। আত্রাই নদের ওপর নির্মিত একটি নতুন সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে অনেকেই আসা-যাওয়ার পথে পাখি দেখতে দাঁড়িয়ে যান।

স্থানীয়রা জানান, ১০-১২ বছর ধরে এসব জায়গায় পরিযায়ী পাখি আসছে। বেশ কয়েক প্রজাতির পাখির মধ্যে বালিহাঁস ও পাতি সরালির সংখ্যাই বেশি। পরিযায়ী পাখি ছাড়াও দেশি প্রজাতির শামুকখোল, পানকৌড়ি, ছন্নিহাঁস ও বক নদের ওই এলাকা মুখর করে রাখে।

মহাদেবপুর উপজেলার পরিবেশবাদীরা জানান, শুরুতে এলাকার কিছু মানুষ পরিযায়ী পাখি অবাধে শিকার করত। ২০১২ সালে পাখি ও বন্য প্রাণী রক্ষার আন্দোলনের অংশ হিসেবে এলাকার কিছু তরুণ ও যুবক এক জোট হয়ে প্রাণ ও প্রকৃতি নামের সংগঠন গড়ে তোলেন। সংগঠনের কর্মীরা স্থানীয় ব্যক্তিদের সচেতন করার পাশাপাশি পাখি হত্যার প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন।

তারা আরও জানান, আগে আত্রাই নদীর মধুবন ও কুঞ্জবন এলাকায় ড্রেজার মেশিন দিয়ে বালু তোলা হতো। আন্দোলনের ফলে প্রশাসন ওই এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধ করে দিয়েছে। পাখিরা এখন নিরাপদে আছে। তবে নদীতে বালু উত্তোলন বন্ধ করে কিছু এলাকা পাখিদের জন্য অভায়ারণ্য ঘোষণা করলে আরও ভালো হতো।

আত্রাই নদীর পূর্ব-পশ্চিম দুপাশেই মাছের অভয়াশ্রম গড়ে তোলায় দেশি মাছের উৎপাদন যেমন বাড়ছে, পাশাপাশি পরিযায়ী পাখির বিচরণেও সুবিধা হচ্ছে। পাখি ও জীববৈচিত্র্য বাঁচলে পরিবেশ বাঁচবে, পরিবেশ বাঁচলে মানুষ বাঁচবে। আমাদের উচিত এসব পখির জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল তৈরি করে দেয়া। তবে পাখির অভয়াশ্রম গড়ে তুলতে স্থানীয় পাখিপ্রেমী যুবকদের প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা করা হচ্ছে। এছাড়া অবাধে কেউ যেন পাখি শিকার করতে না পারে সে বিষয়টিও দেখা হচ্ছে। পাখির অভয়াশ্রম গড়ে ওঠায় এ উপজেলাটি বেশ প্রশংসিত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা