" /> রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে সংবিধান সংস্কার অত্যাবশক – নাগরিক দৃষ্টি টেলিভিশন
শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩, ০৯:৫৪ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
খালেদা, তারেককে নিয়ে সময় টিভির প্রতিবেদন সম্পর্কে যা বললেন ফখরুল বিদ্যুতের দাম প্রতি মাসেই সমন্বয় করা হবে : প্রতিমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী বিশ্বব্যাপী উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছেন : নাছিম বিআইডব্লিউটিএ’র অনুমোদন ছাড়া কোনো সেতু নয় : নৌ প্রতিমন্ত্রী সিলেটে আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস- ২০২৩ উদযাপন সাংবাদিক আফতাব হত্যা : ৯ বছর ছদ্মবেশে ফাঁসির আসামি, অবশেষে গ্রেপ্তার বিদ্যার দেবী শ্রী শ্রী সরস্বতী পূজা সাংবাদিক আফতাব হত্যা : ৯ বছর ছদ্মবেশে ফাঁসির আসামি, অবশেষে গ্রেপ্তার বার বার আদালতে আনা নেয়ায় অসুস্থ হয়েছেন রিজভী : ইউট্যাব ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়ার মূল হাতিয়ার হবে ডিজিটাল সংযোগ : প্রধানমন্ত্রী

রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে সংবিধান সংস্কার অত্যাবশক

IMG 20221202 WA0001 min

8 / 100

দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট মূলত শাসনতান্ত্রিক তথা সাংবিধানিক সংকট। এ সংকট এমন স্তরে উপনীত হয়েছে, এর সমাধান কেবল দলবদল বা সরকার বদলের প্রচলিত রাজনীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই।

রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে সংবিধান সংস্কার অত্যাবশক।

আজ শুক্রবার (২ ডিসেম্বর) ‘সংবিধান সংস্কার করবে কারা: জাতীয় সংসদ না কি সংবিধান (সংস্কার) সভা?’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা। জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে রাষ্ট্রচিন্তা।

সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশের নানা মহলে এখন রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে এক ধরনের ঐক্যমত্য তৈরি হয়েছে। কিন্তু কীভাবে এই সংস্কার হবে সেই প্রশ্নে অস্পষ্টতা কাটেনি। সংবিধান সংশোধনী একটি আইনি পরিভাষা যা ইতিমধ্যেই বিদ্যমান সংবিধানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। অন্যদিকে সংবিধান সংস্কার একটি রাজনৈতিক পরিভাষা। এর সীমা আদালত দ্বারা নির্ধারিত নয়, বরং রাজনৈতিকভাবে জনগণ দ্বারা নির্ধারিত। জনগণই ঠিক করবে সংবিধানের কোন অংশ কতটা সংস্কার করতে হবে।

রাষ্ট্রচিন্তার সম্পাদক হাবিবুর রহমানের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য আর রাজী। নির্ধারিত আলোচকদের মধ্যে ছিলেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ অ্যাডভোকেট ড. শাহদীন মালিক, লেখক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল, দৈনিক সমকাল পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক আবু সাঈদ খান, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম।

ড. শাহদীন মালিক বলেন, সামরিক অভ্যুত্থানের পরে ত্রয়োদশ সংশোধনী দেশকে সবচেয়ে বেশি অস্থিতিশীল করেছে। আমাদের নাগরিক সত্ত্বাকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। সাংবিধানিকভাবে যে জমিদারি প্রথা বলবৎ আছে তা বদলানো জরুরি। কাজেই রাষ্ট্র হতে গেলে আমাদেরকে রাষ্ট্র নিয়ে চিন্তা করা শুরু করতেই হবে।

ড. আসিফ নজরুল বলেন, সংশোধনীগুলোর মাধ্যমে সংকটকে আরও ঘনীভূত করা হয়েছে। অবশ্যই সংবিধান সংস্কার করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু কোন পদ্ধতিতে সংস্কার হবে, তা আরও ভাবতে হবে।

আবু সাঈদ খান বলেন, সংশোধনীর বেড়াজাল থেকে মুক্ত হওয়া প্রয়োজন। গণপরিষদ আর জাতীয় সংসদের মধ্যে খুব একটা পার্থক্য নেই। বাহাত্তরের সংবিধানের অনেক স্পিরিটের আবেদন এখনও ফুরিয়ে যায়নি।

অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ূম বলেন, এ মুহূর্তে জনগণকে মুক্তি দিতে হলে সংবিধান (সংস্কার) সভায় যাওয়ার কোনো বিকল্প নেই। একটি গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে জনগণের আবেগ অনুভূতি ও মর্যাদাকে ধারণ করে এমন গণতান্ত্রিক শক্তিদের সমন্বয়ে সংবিধানের ক্ষমতাকাঠামোর সংস্কার আশু জরুরি। অতীতে জনগণ রক্ত দিয়ে সংবিধান সংশোধন করেছিল। সেটা একটা বিভক্ত এবং বিতর্কিত রায়ে জনমতের বিপক্ষে বাতিল করা হয়েছে। কাজেই সংশোধনী দিয়ে বর্তমান সংকটের সমাধান হবে না। জনগণের পক্ষের, রাষ্ট্রে জনগণের মালিকানা নিশ্চিত করার সংবিধান চাইলে আমাদের সংবিধান (সংস্কার) সভাই করতে হবে।

হাবিবুর রহমান বলেন, আমরা মনে করি সংবিধানের ক্ষমতাকাঠামোগত পরিবর্তনে সংবিধান (সংস্কার) সভা গঠনের নির্বাচন করতে হবে। এটা গুটিকয়েক বোদ্ধাদের বিষয় নয়, সমগ্র জনগণের বিষয়। তাই আমরা বাংলাদেশের জনগণের সামনে এই বিতর্ক নিয়ে যেতে চাই। আমাদের আকাঙ্ক্ষা এ বিতর্ক জাতীয় পর্যায়ে বিস্তৃত হোক ও আলোচনার মাধ্যমে একটি গ্রহণযোগ্য সমাধানসূত্র বের হয়ে আসুক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা