" /> বগুড়ায় বাণিজ্যিকভাবে চাইনিজ কমলা চাষে আগ্রহী হচ্ছে যুবকরা – নাগরিক দৃষ্টি টেলিভিশন
শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩, ১০:৪৩ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ

বগুড়ায় বাণিজ্যিকভাবে চাইনিজ কমলা চাষে আগ্রহী হচ্ছে যুবকরা

বগুড়ায় বাণিজ্যিকভাবে চাইনিজ কমলা চাষে আগ্রহী হচ্ছে যুবকরা

9 / 100

বগুড়া প্রতিনিধি: কোনটা ৫/৬ ফুট ছাঁড়িয়েছে, আবার কোনটা বুক সমান। কচি সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলন্ত ছোট ছোট হলুদ রঙের কমলা বেশ নজর কাঁড়ছে। এরই মধ্যে অনেক ফলই পরিপক্ক হয়েছে। ফলটির নাম ‘’চায়নিজ কমলা’’। সুদূর চীন দেশে এ ফলের ব্যাপক চাষ হয়, তাই এটির নামকরণেও চায়না কমলা বলে খ্যাতি পেয়েছে।


তবে চীন দেশের জাত বগুড়া জেলার সদর উপজেলার গোকুল ইউপির পলাশবাড়ী দক্ষিনপাড়া গ্রামের কমলাচাষী আজিজুর রহমান ও মাহমুদ বাবুল এর বাগানে এই ফলটির চাষ হচ্ছে। এদের মতো শহর থেকে ৭ কিলোমিটার উত্তরে লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের কাজী নূরইল যশোপাড়া এলাকার সফল উদ্যোক্তা পারভেজ, পল্লব নামের দুইভাই প্রাথমিকভাবে ২ বিঘা জমিতে এ ফলের চাষ করেছে। ফলনও বেশ ভাল হয়েছে। তাদের কমলা বাগান দেখতে প্রতিদিন অনেক নতুন উদ্যোক্তা আসছেন। আসছেন অনেক দর্শনার্থীরাও। তবে এই কমলাগুলো আগামী বছর থেকে বানিজ্যিকভাবে বাজারে ছাড়বেন বলে জানিয়েছেন উদ্যোক্তারা।

বগুড়ায় বাণিজ্যিকভাবে চাইনিজ কমলা চাষে আগ্রহী হচ্ছে যুবকরা


কমলা বাগানের উদ্যোক্তা বগুড়া শহরের শিববাটিতে বেড়ে ওঠা দুই ভাই পারভেজ. পল্লব মাস্টার্স পাশ করে নেন একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানীতে। এরপর তারা এখন নিজে কিছু করার জন্য দুই ভাই মিলে একটি গ্যাস কোম্পানীর ডিস্ট্রিবিউটর হিসেবে ব্যবসা করছেন শহরের মাটিডালী এলাকায়।


২০১৯ সালে ব্যবসায়িক কাজে ও বেড়াতে চুয়াডাঙ্গায় গিয়ে একজন কৃষকের চায়না কমলার বাগান দেখতে পেয়েই তাদের মনের মধ্যে এ বাগান করার সখের জন্ম নেয়। সেখানে ওই কৃষকের কথামতো দুই মাস বয়সি ২১৪ টি কমলার চারা নিয়ে আসেন। নিজেদের ২ বিঘা জমিতে সাহিদা এগ্রো ফার্ম নামের একটি চায়না কমলার বাগান করেন। এরমধ্যে চারটি চারা মারা যায়। বাকী ২১০টি চারায় ২ বছর পরই ফল ধরা শুরু করে। ভাল ফলাফলের জন্য এবং পরীক্ষার জন্য ৬০ শতাংশ গাছের ফল রেখে বাদবাকি ফল কেটে ফেলে দেন।


আরেক কমলাচাষী আজিজুর রহমানের সাথে কথা বললে তিনি জানান, “গ্রামে তিনি সবজির আবাদ করতেন। বছর চারেক আগে ছেলে বাবুল হোসে চুয়াডাঙ্গা চারা সংগ্রহ করে এনে সবজি চাষের পাশাপাশি অনাবাদি জমিতে পরীক্ষামূলক ভাবে কমলার চারা লাগায়। ২০২০/২১ সালে এ কমলার ভাল ফলন দেখে আমরা আরো অনুপ্রাণিত হয়ে পরে প্রায় ৭০ শতাংশ জমিতে ২২টি কমলার চারা দিয়ে বাগান গড়ে তুলি।


কমলা বাগানের মালিক মাহমুদ বাবুল জানান, উপজেলার কয়েকজন সফল উদ্যোক্তার মতো তিনিও ২০১৮ সালে নিজের ১১ শতক জমিতে ১২টি চাইনিজ কমলার চারা রোপন করেন। তবে এ কমলার ফলন, রং ও স্বাদ কেমন হবে তা সঠিকভাবে কেউই জানতেন না।


প্রায় দুই বছর পর গাছে ফল আসে। তবে গাছের পুরোপুরি ফল ও গাছের গ্রোথ পূর্ণ হতে তিন বছর লাগে। এটা চাষ করার আগে এই এলাকা কমলা চাষের জন্য উপযোগী হবে কিনা কৃষি কর্মকর্তাদের সাথেও কথা বলে শঙ্কা কাটিয়েছেন। এখন তাদের কমলা বাগানে শোভা পাচ্ছে শ’ শ’ কমলা। এ কমলা অবিকল চায়না কমলার মত দেখতে। রং ও স্বাদও প্রায় অনেকটাই অবিকল।


“কমলার চারাগুলো মূলত ২ বছরের মধ্য ফলন উপযোগী হয়ে ২০ থেকে ২৫ বছর পর্যন্ত বেঁচে থাকতে পারে। এক বিঘা জমিতে কমলার চাষ করতে প্রথম ১০/১৫ হাজার টাকা খরচ হয়। অল্প পরিচর্যার মাধ্যমেই এ চাষে সাফল্য আসে। কমলা চাষে পোকামাকড়ের আক্রমণও কম। একটি পূর্ণ বয়স্ক গাছ থেকে এক মৌসুমে ৩০-৩৫ কেজি কমলা পাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন কমলা চাষীরা।


তবে জেলার অনেক অনাবাদি জমি রয়েছে এবং মাটিও কমলা চাষের জন্য ভাল। কেবল পাহাড় নয়, সঠিক পরিচর্যা করে সমতল জমিতেও সুমিষ্ট কমলার চাষ সম্ভব। বিদেশ থেকে কমলা আমদানির দিন শেষ হতে চলেছে। বাণিজ্যিকভাবে বাগান বাড়লে দেশীয় কমলা দিয়ে বাৎসরিক চাহিদা মেটানো সম্ভব।জেলার চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করাও সম্ভব হবে।


তাইতো বেকার এবং শিক্ষিত যুবকদের তাই লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে দেশের বাইরে না গিয়ে দেশেই তথা নিজের জমিতে চায়না কমলার বাগান করে আত্মনির্ভরশীল হন। এবং এতে করে দেশেই কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে। এমনটাই নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে এ অঞ্চলের সফল উদ্যোক্তারা বলেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা