" /> তবুও তিনি বহাল তবিয়তে! – নাগরিক দৃষ্টি টেলিভিশন
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১০:৫০ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
রাত পোহালে রাজধানীতে বিএনপির গণসমাবেশ নারী জাগরণের মধ্যেই সকলের সম্মিলিত অংশগ্রহণে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে : প্রধানমন্ত্রী বিদেশি কূটনীতিকদের বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অযাচিত মন্তব্য না করার আহ্বান : সেতুমন্ত্রী গুজরাট বিজেপি ১৮২ আসনের ১৫৬টিতে জয়ী হয়ে রেকর্ড রিমান্ড শেষে কারাগারে টুকুসহ সাত জন জামিন নামঞ্জুর, কারাগারে ফখরুল-আব্বাস ফখরুল-আব্বাসকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ সর্দিতে নাক বন্ধ হলে আরাম পেতে যা করবেন আর্জেন্টিনা-নেদারল্যান্ডসের আগের লড়াইগুলো ম্যাচ পরিসংখ্যান ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়ার ম্যাচ পরিসংখ্যান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেসিডেন্সি কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত

তবুও তিনি বহাল তবিয়তে!

Untitled design 11 1

নানা অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। নির্বাচন কর্মকর্তা কর্মচারীদের অতিরিক্ত শ্রমঘন্টার টাকা আত্মসাৎ কেনাকাটায় অনিয়ম রোহিঙ্গাদের ভূয়া ভোটার করার অভিযোগ রয়েছে। তার রয়েছে অসীম ক্ষমতা। তার হুঙ্কারে কাঁপেন উপ-সচিব ও যুগ্ম সচিবরা। তার বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর মূখ্য সচিব, মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রি ও সচিবের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তারপরেও রহস্যজনক কারণে তিনি রয়েছেন বহাল তবিয়তে।


নির্বাচন কমিশনে নিন্মমানের মিনথল আমদানির তথ্য চেয়ে চিঠি দিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর। ২০০৪ সালের ৬ এপ্রিল শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মতিউর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পাঠায় নির্বাচন কমিশনের সচিবের কাছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে ওই চিঠির জবাব আজও দেয়নি নির্বাচন কমিশন।
২০০৩ সালের ১৬ জুলাই নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অনুমতি প্রদান পত্রে জানা যায় যে “নির্বাচন অগ্রাধিকার অতীব জরুরি” শিরোনাম সম্বলিত পত্রে নির্বাচন পরিচালনার জন্য জরুরি ভিত্তিতে অমোচনীয় কালি তৈরীর প্রয়োজনে চার হাজার লিটার মিথানল আমদানি করে সরবরাহ করার জন্য মেসার্স ক্যামব্রীজ সায়েন্টিফিক স্টোরকে অনুমতি দেওয়া হয়।


শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর থেকে পাওয়া গোপন সংবাদে জানা যায় যে, মেসার্স ক্যামব্রীজ সায়েন্টিফিক স্টোর ওই অনুমতি পত্রের ভিত্তিতে মিথানল আমদানি ও সরবরাহে প্রচুর অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছে। নির্বাচন কমিশন সবিচালয়ের পত্রে বিশেষ ভাবে জরুরি ভিত্তিতে মিথানল সরবরাহের কথা উল্লেখ থাকলেও আজ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি আমদানি চালানের সমুদয় পণ্য সরবরাহ করে নাই।


কোন্ গ্রেডের মিথানল লিটার প্রতি কত মূল্যে সরবরাহের অনুমোদন দেয়া হয়েছে তাও ওই পত্রে স্পষ্ট করেনি। গোপন সূত্রে জানা যায়, এ ধরনের ক্ষেত্রে সাধারণত ড্রাম প্যাকিংয়ে সাধারণ গ্রেডের মিথানল আমদানি করার কথা বাস্তবে প্রতিষ্ঠানটি দুই লিটার বোতল প্যাকিংয়ে ড্রাগ অথবা মদ তৈরিতে ব্যবহার উপযোগী আমদানি নিষিদ্ধ মিথানল আমদানি করেছে। যার ক্রয়মূল্য আপনার দপ্তরের অনুমোদিত মূল্যেরও দশগুণ বেশি। শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তর পূর্ণাঙ্গ তদন্তের স্বার্থে মেসার্স ক্যামব্রীজ সায়েন্টিফিক স্টোরকে মিথানল সরবরাহের টেন্ডার সংক্রান্ত অন্যান্য যাবতীয় দলিলাদির সত্যায়িত কপি এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয় কোন্ গ্রেডের লিটার প্রতি কত মূল্যে কি কি শর্তে সরবরাহের অনুমতি দেয়া হয় সেই সব দলিলাদির সত্যায়িত কপি শুল্ক গোয়েন্দা অধিদপ্তরের গোয়েন্দা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমের কাছে অথবা নিম্নস্বাক্ষরকারী মতিউর রহমানের কাছে বিশেষ বাহক দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে সরবরাহ করার জন্য অনুরোধ করা গেল।


ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য এই কালি কেনার অভিযোগের সাথে ওই সময়ের সহকারী সচিব আব্দুল বাতেন জড়িত ছিলেন। বর্তমানে তিনি নির্বাচন প্রশিক্ষণের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ওই সময় থেকে আজ পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে এই আবদুল বাতেনের বিরুদ্ধে নানা ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু রহস্যজনক কারণে তিনি বারবার ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।


জানা যায়, বাংলাদেশ সরকার ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও নতুন এনআইডি তৈরির কর্মসূচি হাতে নিলে রোহিঙ্গাদের ভোটার করতে সক্রিয় হয় এনআইডি দেওয়া সিন্ডিকেট। কক্সবাজারের কয়েকজন শিক্ষক ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কিছু কর্মকর্তা ওই সিন্ডিকেটে নতুন করে যোগ দিয়ে তৎপরতা শুরু করেন। কক্সবাজার এলাকার স্কুলশিক্ষক ও ব্যবসায়ীরা মিলে বাংলাদেশি এনআইডি পেতে আগ্রহী রোহিঙ্গাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। কেউ এনআইডি করতে রাজি হলে তারা প্রতি জনের থেকে ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা নেন।

এরপর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয় রোহিঙ্গার নাম, পিতার নাম ও মাতার নাম। ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রোহিঙ্গারা পেয়ে যান ঢাকা উত্তর সিটির বিভিন্ন ওয়ার্ডের জন্মনিবন্ধন। এরপর নির্বাচন কমিশনের ডাটা এন্ট্রি অপারেটরদের কথামতো বিভিন্ন কেন্দ্র গিয়ে লাইনে দাঁড়ান তারা। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকার ঠিকানা ব্যবহার করে আঙুলের ছাপ ও ছবি তুলে নির্বাচন কমিশনের মূল সার্ভারে তা আপলোড করা হয়। পরে নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তাদের সহায়তায় রোহিঙ্গারা পেয়ে যান এনআইডি। ভোটার হওয়ার এ প্রক্রিয়া শেষ করতে একেকজন রোহিঙ্গাকে খরচ করতে হয় ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা। এরই মধ্যে রোহিঙ্গাদের এনআইডি সরবরাহে জড়িত থাকার অভিযোগে নির্বাচন কমিশনের এক সিনিয়র কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে ইসি। ওই কর্মকর্তার নাম আবদুল বাতেন, পরে ১২ অক্টোবর নির্বাচন কমিশনের সহকারী সচিব মোহাম্মদ শহীদুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি পত্রে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সাতদিনের সময় বাড়ানো হয়। কিন্তু তিনি আজ পর্যন্ত এ বিষয়ে কোন তদন্ত প্রতিবেদন দেননি।


১২ এপ্রিল দুদকের ০০.০১.০০০০.৫০৪.২৬.১০৪.২২-১৪৮০৫ নম্বর স্মারকে দুদকের নির্দেশে তদন্ত করছে নির্বাচন কমিশন। কিন্তু ওই তদন্ত প্রতিবেদন এখনও আলোরমুখ দেখেনি।


এ ব্যাপারে তদন্ত কর্মকর্তা এ.কে.এম হুমায়ুন কবীরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, এটা আমি আপনাকে বলতে বাধ্য নই। আমি ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বলবো। আপনি তো আমার ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ না , তাই এ বিষয়ে আপনাকে কিছু বলবো না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.


ফেসবুকে আমরা