" /> বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথে থাকছে তিনটি জংশন ও সাতটি স্টেশন – নাগরিক দৃষ্টি টেলিভিশন
শনিবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৩, ১০:২৪ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ

বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথে থাকছে তিনটি জংশন ও সাতটি স্টেশন

BOG SIRAJ TRANLINE 16 Nov 2022 B

7 / 100

বগুড়া প্রতিনিধি:
বগুড়া-সিরাজগঞ্জ দুই জেলার বহু কাঙিক্ষত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে স্থানগুলো পরিদর্শন শেষে প্রস্তাবিত ৮৪ কিলোমিটার কাজের অগ্রগতি বেড়েছে। এ রেলপথে তিনটি রেল জংশন ও ৭ টি স্টেশন নির্মাণের প্রস্তাবসহ চলতি অর্থ বছরে জমি অধিগ্রহণের জন্য ১৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। খুব শিঘ্রই দুই জেলা মিলিয়ে ৯৪৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।


প্রকল্পের আওতায় বগুড়ার কাহালু উপজেলায় একটি, বগুড়া সদর রেলওয়ে স্টেশনে একটি ও অপর একটি জংশন শাজহানপুর উপজেলার রানীরহাটে নির্মাণ হবে। প্রকল্প মোতাবেক নতুন ওই রেলপথে জংশন ছাড়াও আরও ৭টি স্টেশন স্থাপন করা হবে। এগুলো হলো-রাণীরহাট, আড়িয়াবাজার, শেরপুর, চান্দাইকোনা, রায়গঞ্জ, কৃষাণদিয়া ও সদানন্দপুর। উক্ত রেলপথ নির্মাণ হলে ঢাকার সঙ্গে বগুড়ার যোগাযোগে ১১২ কিলোমিটার সড়ক কমে আসবে। জমি অধিগ্রহণ শেষ হলে দুই জেলার মধ্যে সরাসরি ট্রেন চলাচলের পথ নির্মাণ শুরু করা হবে।


বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতুর শহীদ এম মনসুর আলী রেল স্টেশন পর্যন্ত ডুয়েল গেজ রেল লাইন নির্মাণ প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব দাখিল করা হয়েছে। অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রত্যাশী সংস্থা কর্তৃক জেলা প্রশাসকের নিকট স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন ২০১৭ অনুসরণ করে প্রস্তাব দাখিলের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় বলে বগুড়ার জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক জানিয়েছেন।


তবে এ রেল পথ নির্মাণে বগুড়ার অংশে প্রায় ৪৮০ একর এবং সিরাজগঞ্জ অংশে ৪৬৪ একরসহ মোট ৯৪৪ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য আগামী অর্থ বছরে প্রয়োজনীয় সকল অর্থ বরাদ্দ করা হবে। আর চলতি অর্থ বছরে জমি অধিগ্রহণের জন্য ১৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও প্রকল্পটির সকল প্রক্রিয়া শেষে দরপত্র আহ্বান করা হবে বলে ওই কর্মকর্তা জানান।


তথ্যসুত্রে প্রকাশ, বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের দাবি দীর্ঘদিনের। এই দুই জেলার মধ্যে সরাসরি রেল পথ না থাকায় উত্তরাঞ্চলের ট্রেনগুলোকে যাত্রী ও কৃষিপণ্য নিয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়। বর্তমানে বগুড়ার সান্তাহার জংশন হয়ে, নাটোর, পাবনা, ঈশ্বরদী, সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া হয়ে যমুনা নদীর উপর নির্মিত বঙ্গবন্ধু সেতুতে পৌঁছাতে হয়। শুধুমাত্র বগুড়া রেলওয়ে স্টেশন থেকে তিনটি জেলার পথ ঘুরে বঙ্গবন্ধু সেতুতে পৌঁছাতে সময় লেগে যায় প্রায় ৩ থেকে ৪ ঘন্টা। আর প্রায় ৪০৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ঢাকায় পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৮ থেকে ৯ ঘন্টা। আর সড়ক পথে ২০০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে বাসে করে ঢাকা যেতে সময় লাগে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা।


এ রেলপথ নির্মাণ হলে বগুড়া থেকে সরাসরি বঙ্গবন্ধু সেতুতে ট্রেন সার্ভিস চালু হলে বগুড়াসহ উত্তরের জেলার ট্রেন যাত্রীদের ১১২ কিলোমিটার পথ কমে আসবে এবং সময় লাগবে ১ ঘণ্টা থেকে সোয়া ১ ঘণ্টা। সেই সাথে খরচ কমে গিয়ে উত্তরের ট্রেন যাত্রীদের আর্থিকভাবে সাশ্রয় হবে। আর এক্ষেত্রে বাসে করে ঢাকায় যেতে ২০০ কিলোমিটার ও ট্রেনে করে পাড়ি দিতে হয় ৪০৫ কিলোমিটার। সড়ক পথ হয়ে বগুড়া, জয়পুরহাট, নওগাঁ, গাইবান্ধা, রংপুর, নীলফামারি, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, লালমনিরহাট কুড়িগ্রাম জেলার ঢাকাগামীরা যাতায়াত করে। এ কারণে সড়ক ও রেলপথে সব সময় যানজট লেগেই থাকে। যানজটের কারণে ঢাকা পৌঁছাতে হয় নানা দুর্ভোগ নিয়ে। এই দুর্ভোগ থেকে রেহাই পেতে বগুড়া ও সিরাজগঞ্জসহ উত্তরের বাসিন্দারা রেলপথ নির্মাণের দাবি তোলেন। এই পথটি নির্মাণ হলে উত্তরের ১০ জেলায় অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরো বৃদ্ধি পাবে।


এ দু জেলাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে ২০১১ সালের ৯ এপ্রিল সিরাজগঞ্জে এবং বগুড়ায় ২০১৫ সালের ১২ এপ্রিল এক জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ রেলপথ উপহার দেওয়ার ঘোষণা দেন। এরপর থেকে বিভিন্ন সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।


এরপর ২০১৮ সালে বহুল প্রতিক্ষিত বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় অনুমোদন পায়। বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী স্টেশন পর্যন্ত ৮৬ দশমিক ৫১ কিলোমিটার নতুন ডুয়েল গেজ রেলপথ নির্মাণ করবে সরকার। পাশাপাশি ১৬ দশমিক ৩০ কিলোমিটার ডুয়েলগেজ লুপ লাইন নির্মিত হবে। এটা বাস্তবায়িত হলে ট্রেনে সোজাপথে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবেন উত্তরবঙ্গের মানুষ।
তৎকালীন সময়ে প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এর মধ্যে ভারতীয় ঋণ ৩ হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। চলতি বছর থেকে ২০২২ সালের জুনের মধ্যে এ রেলপথটি নির্মিত হওয়ার কথা ছিল। রেল লাইনের পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় ট্র্যাকওয়ার্কস, বাঁধ, স্টেশন বিল্ডিং, সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ করা হবে বলে ওই সভায় আলোচিত হয়।


চলতি বছরে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রকল্পের আওতায় দুটি রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা হবে। একটি হলো-বগুড়া স্টেশন থেকে ২ হাজার ৬০০ ফুট পশ্চিমে অবস্থিত বগুড়া শহরের রেললাইন পর্যন্ত। এরপর বগুড়া রেললাইন থেকে সিরাজগঞ্জের বঙ্গবন্ধু সেতুর এম মনসুর আলী স্টেশন পর্যন্ত ৭২ কিলোমিটার এবং অপরটি হলো বগুড়ার কাহালু স্টেশন থেকে রাণীরহাট পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার রেলপথ। এজন্য সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা।


বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের প্রকল্প পরিচালক মো. মনিরুল ইসলাম ফিরোজি জানান, বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ হলে উত্তরের জেলাগুলোর সঙ্গে ঢাকার ১১২ কিলোমিটার পথ কমে আসবে। রেলপথটি নির্মাণের জন্য বগুড়া এলাকায় তিনটি জংশন করা হচ্ছে। টেন্ডার প্রক্রিয়াসহ প্রকল্পের সকল কাজ চলমান রয়েছে। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথের জমি শিগগিরই অধিগ্রহণ শুরু করা হবে। সেক্ষেত্রে বগুড়া অংশে প্রায় ৪৮০ একর জমি এবং প্রকল্পের সিরাজগঞ্জ অংশে ৪৬৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হবে। রেলপথ নির্মাণ হলে বগুড়াসহ উত্তরের মানুষের অবশ্যই উন্নয়ন হবে।


বগুড়া জেলা প্রশাসক মো. জিয়াউল হক জানান, গত ১৪ নভেম্বর বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ করতে জমি অধিগ্রহনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। যে পরিমাণ জমি অধিগ্রহণ করা হবে, তা প্রতিটি মৌজায় সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হবে। সরকারি মূল্য নির্ধারণ অনুযায়ী জমির মালিকদের অর্থ প্রদান করা হবে। এই রেলপথটি নির্মাণ হলে উত্তরের ১০ জেলায় আর্থিক গতি আরো বৃদ্ধি পাবে। এছাড়াও কম সময়ে ঢাকায় রেলযোগে যেতে পারবে উত্তরের জনগণ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা