বুধবার, ১৭ অগাস্ট ২০২২, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন
নিউজ বোর্ড :
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, ঠিকাদার কোম্পানিকে ব্ল্যাক লিস্ট করার, উত্তরায় গার্ডার দুর্ঘটনা মোহাম্মদ আলী মিয়া সিআইডি প্রধান হলেন একটু বাড়াবাড়ি হয়েছে বরগুনার ঘটনাটি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামাল বাম জোটের অর্ধদিবস হরতালের ডাক স্বাধীনতা দিবসে মোদি,২৫ বছরে উন্নত দেশ হবে ভারত, মিয়ানমারের ক্ষমতাচ্যুত নেত্রী অং সান সু চিকে ছয় বছর কারাদণ্ড দিয়েছেন জান্তা সরকারের আদালত ফিফা নিষিদ্ধ করল ভারতকে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট নিয়ন্ত্রণে,চকবাজারে পলিথিন কারখানায় আগুন বিআরটি’র গার্ডার পড়ে উত্তরায় নিহত ৪ সেই ভয়াল রাতে,যা ঘটেছিল হারানো শোককে শক্তিতে রূপান্তর করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির প্রধান বিচারপতির শ্রদ্ধা,জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে সংগ্রাম করে যাচ্ছেন শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নপূরণে-ওবায়দুল কাদের দেশে-বিদেশে ষড়যন্ত্র চলছে,বাংলাদেশকে নিয়ে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছুঁতে পারত বঙ্গবন্ধুকে সবাই ধরতে পারত: পরিকল্পনামন্ত্রী বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ও আদর্শের মৃত্যু ঘাতকচক্র ঘটাতে পারেনি: প্রধানমন্ত্রী বাঙালি জাতির জন্য বেদনাবিধুর দিন ১৫ আগস্ট বিমানবন্দরে ফুল দিয়ে বরণের প্রস্তুতি, দেশে ফিরছেন শাকিব সব মসজিদে শোক দিবসে বিশেষ দোয়া-মোনাজাত
নোটিশ বোর্ড :
১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস, সে উপলক্ষে এনডিটিভির বিশেষ আয়োজন টেলিফিল্ম “৭৫ এর ১৫ আগষ্ট” দেখবেন আজ রাত ৯ -২০ মিনিটে, শুধু মাএ নাগরিক দৃষ্টি টেলিভিশন এর পর্দায়।। জরুরি ঘোষণাঃ আমাদের আই টি বিভাগের কারিগরি উন্নয়ন এর কাজ চলছে! এতে প্রচারে বিঘ্ন ঘটতে পারে সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখিত। #Ndtvbdnewsroom “জরুরী আবশ্যক”বেসরকারী অনলাইন টেলিভিশন চ্যানেল ” নাগরিক দৃষ্টি টেলিভিশন ” এনডিটিভি তে এ উপস্থাপক উপস্থাপিকা, ভয়েস আটির্স,অফিস সহকারী পুরুষ – মহিলা এসএসসি,এইচএসসি,স্নাতক,ছবি সহ আবেদন করতে হবে এই মেইলে hr@ndtvbd.com * পরিক্ষামুলক সস্প্রচার * পরিক্ষামুলক সস্প্রচার * নাগরিক সাংবাদিকতার পথে ,আপনি হতে পারেন নাগরিক সাংবাদিক, দেরি না করে এখনি পাঠিয়ে দিন আপনার ছবি সহ বায়োডাটা এই মেইলে hr@ndtvbd.com, আপনারা যদি কোন সংবাদ বা নিউজ ক্লিপ পাঠাতে চান তাহলে এই মেইলে পাঠাতে পারেন news@ndtvbd.com– Head Of News–* পরিক্ষামুলক সস্প্রচার * পরিক্ষামুলক সস্প্রচার * পরিক্ষামুলক সস্প্রচার * পরিক্ষামুলক সস্প্রচার * পরিক্ষামুলক সস্প্রচার

স্বীকৃতির সীমাতেই বন্দি বাংলা ভাষা

index2 4

সংবিধানে বাংলা ভাষার উন্নয়ন ও প্রসারে দিকনির্দেশনা থাকলেও রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে আবশ্যিক ভাষা হিসেবে বাংলার ব্যবহার হচ্ছে না। ভাষা আন্দোলনের ৭০ বছরেও নেই নিজস্ব ভাষানীতি। উচ্চ আদালত, ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ইংরেজির পাশাপাশি বাংলা ভাষা ব্যবহূত হচ্ছে। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ইংরেজি ও হিন্দির মিশ্রণে তৈরি বাংলার ব্যবহার চলছে। আবার বিশ্বায়নের দোহাই দিয়ে কিছু বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পূর্ণ পাঠ্যসূচিই প্রণীত হয়েছে ইংরেজি ভাষায়। ফলে বাংলা ভাষার পরিধি ক্রমশ সংকুচিত হয়ে আসছে।

সংবিধানের চারটি স্থানে বাংলা ভাষার ব্যবহারকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে ‘প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা বাংলা’। ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্র জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও উত্তরাধিকার রক্ষণের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন এবং জাতীয় ভাষা, সাহিত্য ও শিল্পকলাসমূহের এমন পরিপোষণ ও উন্নয়নের ব্যবস্থা গ্রহণ করিবেন এবং যাহাতে সর্বস্তরের জনগণ জাতীয় সংস্কৃতির সমৃদ্ধিতে অবদান রাখিবার ও অংশগ্রহণ করিবার সুযোগ লাভ করিতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে আমি ঘোষণা করছি, আমার দল ক্ষমতা গ্রহণের দিন থেকেই সব সরকারি অফিস, আদালত ও জাতীয় জীবনের অন্যান্য ক্ষেত্রে বাংলা চালু করবে। এ ব্যাপারে আমরা পরিভাষা সৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করব না। কারণ, তাহলে সর্বক্ষেত্রে কোনো দিনই বাংলা চালু করা সম্ভব হবে না। এ অবস্থায় হয়তো কিছু কিছু ভুল হবে। কিন্তু তাতে কিছু যায় আসে না। এভাবেই অগ্রসর হতে হবে।’

এরপর ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিয়ে বঙ্গবন্ধুর সরকার দেশে সংবিধান কার্যকর করে। সংবিধানের আলোকে সর্বস্তরে বাংলা ভাষা প্রচলনে দেশে আইন করা হয় ১৯৮৭ সালে। উচ্চ আদালতও কয়েক দফা বাংলা ভাষানীতি প্রণয়নে তাগিদ দিয়েছেন। এরপরও ভাষানীতি প্রণয়নের বিষয়টি উপেক্ষিতই থেকে গেছে।

ভাষাসংগ্রামী ও শিক্ষাবিদরা বলছেন, রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের উদাসীনতায় স্বাধীনতার ৫০ বছরেও সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলন করা সম্ভব হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী সমকালকে বলেন, ‘মাতৃভাষা ব্যবহারে দেশে এখন নীতিহীনতা চলছে। এটি দূর করতে হলে রাষ্ট্রের সর্বত্র বাংলা ভাষা ব্যবহার করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার প্রতিটি পর্যায়ে এবং উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষার ব্যবহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাছাড়া শুধু ভাষানীতি প্রণয়ন করলেই বাংলা ভাষা সমৃদ্ধ হবে না, আমাদেরও মাতৃভাষা ব্যবহারে সচেষ্ট হতে হবে। এর কারণ বিদ্যমান সামজ ব্যবস্থায় অনেকেই ইতোমধ্যে বাংলা ভাষা ব্যবহারের মৌলিক জায়গা থেকে দূরে সরে গেছেন।’

বিশিষ্ট এই শিক্ষাবিদ আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রীয়ভাবেও মাতৃভাষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। আগে প্রভাতফেরি দিয়ে ২১ ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠান শুরু হতো। কিন্তু এটিও এখন ইংরেজি রীতিতে মধ্যরাতে শুরু হয়। অনুরূপভাবে শিক্ষা ব্যবস্থায় বাংলা, ইংরেজি ও আরবি ভাষা ব্যবহূত হচ্ছে, এটি দুঃখজনক। মৌলিক জায়গায় বাংলা ভাষাকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’

ভাষানীতি না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক আহমদ রফিক। তিনি সমকালকে বলেন, ‘অবিলম্বে একটি ভাষা কমিশন গঠন করা প্রয়োজন, যারা দ্রুততম সময়ে একটি ভাষানীতি প্রণয়ন করে বাংলা ভাষা ব্যবহারে যে বিশৃঙ্খলা রয়েছে তা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন। এর সঙ্গে বাংলা পরিভাষা প্রণয়ন এবং অনুবাদের দিকেও আমাদের নজর বাড়াতে হবে। বাংলা ভাষাকে টিকিয়ে রাখতে হলে ভাষার প্রতি ভালোবাসা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।’

ইতালি, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, সুইডেন, ফিনল্যান্ড, নরওয়ে, রাশিয়া, চীন, জাপান, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকার রাষ্ট্রগুলোতে নিজস্ব ভাষানীতি রয়েছে। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ নেপালেও রয়েছে নিজস্ব ভাষানীতি। এর আলোকে তাদের উচ্চ আদালতে মাতৃভাষায় রায় দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে বাংলা ভাষা কালেভদ্রে ব্যবহার হয়।

স্বাধীনতার পর এখন পর্যন্ত কোনো ভাষা জরিপ হয়নি। জানা যায়, ১৯৬২ সালে বাংলা একাডেমি থেকে আঞ্চলিক ভাষার জরিপ কার্যক্রমের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ভাষাবিদ ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্‌র উদ্যোগে কার্যক্রম শুরুর পর জরিপের প্রশ্নমালাও তৈরি করা হয়। জনগণকে এই কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছিল বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে। পরে শিক্ষাবিদ ও গবেষক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাইউম তিনটি উপজেলায় প্রশ্নমালার ভিত্তিতে জরিপও করেন। তিনি তখন বাংলা একাডেমির সংকলন বিভাগের সহকারী অধ্যক্ষ ছিলেন।

তবে ওই কার্যক্রম পরে সফলতার মুখ দেখেনি। ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে এখন বাংলা একাডেমির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটও কাজ করছে। কিন্তু তাদের ভূমিকা প্রকশনার পাশাপাশি সেমিনার বা কর্মশালার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী সমকালকে বলেন, ‘এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে বাংলা ভাষাকে সমৃদ্ধ করার জন্য এখনও আমাদের ভাষানীতি হয়নি। অথচ আন্দোলন-সংগ্রামের পর পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে আমরা ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা বাংলার স্বীকৃতি আদায় করেছি। তাই বাংলা ভাষাকে কেবলমাত্র প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দিলেই হবে না, একে সর্বস্তরে ধারণ করতে হবে। অবিলম্বে যোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে ভাষানীতি প্রণয়নে কমিশন গঠন করা প্রয়োজন।’

এ বিষয়ে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদের ভাষ্য, ‘বাংলা ভাষার উন্নয়ন ও প্রসারে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠানেই বাংলা ভাষা ব্যবহার হচ্ছে। ভাষানীতিও প্রণয়ন করা হবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published.


ফেসবুকে আমরা