" /> প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে যুবলীগের ‘আশ্রয় কর্মসূচি’ উদ্বোধন – নাগরিক দৃষ্টি টেলিভিশন
মঙ্গলবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৩, ০৩:১৮ পূর্বাহ্ন

প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিন উপলক্ষে যুবলীগের ‘আশ্রয় কর্মসূচি’ উদ্বোধন

resize

রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে সোমবার বেলা ১১টায় রাজধানীর ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে যুবলীগের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও ‘আশ্রয় কর্মসূচি’ উদ্বোধন করা হয়েছে।

যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য, সাবেক যুবলীগ চেয়ারম্যান আমির হোসেন আমু এমপি। সম্মানিত অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু চেয়ার অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কবি নির্মলেন্দু গুণ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য নাসরিন আহমাদ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল।আশ্রয় কর্মসূচির উদ্বোধন করেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে যুবলীগ ঘোষিত বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্যে একটি ছিল আশ্রয় কর্মসূচি। সেই কর্মসূচি সম্পর্কে বলা হয়েছিল- মুজিব বর্ষে যুবলীগ দেশের প্রতিটি জেলায় গৃহহীনদের ঘর দেবে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও আশ্রয় কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রাথমিকভাবে গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নরসিংদী ও শেরপুরের ১০টি পৃথক স্থানে গৃহহীনের মাঝে ১০টি গৃহের চাবি হস্তান্তর করা হয়।

242474599 597546278091725 2399020459164742742 n

গাজীপুর মহানগর শাখা যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান রাসেল সরকারের পক্ষ থেকে দুটি ঘর প্রদান করা হয়। ঘর দুটি গ্রহণ করেন মো. ইমান আলী, প্রেম কুমার দাস। গাজীপুর মহানগর শাখার যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. সাইফুল ইসলামের পক্ষ থেকে পাঁচটি ঘর প্রদান করা হয়। ঘরগুলো গ্রহণ করেন- ফাতেমা তুজ জোহরা (দুটি), আনোয়ারা বেগম (দুটি), নুর মোহাম্মদ কটু মিয়া (১ট)। নরসিংদী জেলা শাখার সহ-সভাপতি মো. শামছুল ইসলাম মোল্লার পক্ষ থেকে একটি ঘর গ্রহণ করেন-রতন বালা। ময়মনসিংহ জেলা শাখার আহ্বায়ক আজহারুল ইসলামের পক্ষ থেকে একটি ঘর গ্রহণ করেন-বিউটি খাতুন। শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি হাবিবুর রহমানের পক্ষ থেকে একটি ঘর গ্রহণ করেন-মোসা. খুশবান।

আশ্রয় কর্মসূচি উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, যুবলীগের নিজস্ব অর্থায়নে পরিচালিত আশ্রয় কর্মসূচি চলমান থাকবে। যুবলীগের যেসব নেতাকর্মী নিজ অর্থে গৃহহীনের মাঝে গৃহদান করছেন তাদের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি আমির হোসেন আমু বলেন, শেখ হাসিনা ছোটবেলা থেকেই সংগ্রামী ও সাহসী ছিলেন। আমরা যখন ১৯৬২ সালে হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্টের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করি তখন তিনি আজিমপুর গার্লস স্কুলের ছাত্রী। তিনি সেখানকার ছাত্রীদের নিয়ে মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করতেন। তিনি ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ৬ দফা আন্দোলনের অন্যতম অগ্রসৈনিক ছিলেন। ৭৫ পরবর্তী সময়ে স্বৈরশাসক জিয়াউর রহমান দেশে যখন একটি অরাজকতা পরিবেশ সৃষ্টি করে, বঙ্গবন্ধুর খুনি ও যুদ্ধাপরাধীদের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব দেয়, যখন কোনো আইনের শাসন ছিল না— সেই সময়ে ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনা দেশে ফেরেন আলোর দিশারী হয়ে।

তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে যেমন বাংলাদেশ সৃষ্টি হতো না, তেমনি শেখ হাসিনার জন্ম না হলে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার প্রত্যাশা মানুষ করতে পারত না। আমরা যদি শেখ হাসিনাকে না পেতাম তাহলে বাঙালিরা, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকেরা বাংলার মানুষের কাছে আসামির কাঠগড়ায় থাকতাম।

রফেসর ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন বলেন, ১৯৮১ সালে যেদিন শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেন সেদিন নির্বাসন থেকে বাংলাদেশ অস্তিত্বে ফিরল। ১৯৭২ সালের ১৭ জানুয়ারি মার্কিন সাময়িকী টাইম ম্যাগাজিনে বাংলাদেশের ওপর একটি প্রচ্ছদ প্রতিবেদনে বঙ্গবন্ধুর একটি আবক্ষ ছবি প্রকাশিত হয়েছিল। সেখানে ডান পাশে লেখা ছিল বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ সমার্থক। ১৯৮১ সালের ১৭ মে শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশ ফিরে পেয়েছিলাম। কারণ ৭৫ পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ছিনতাই হয়ে গিয়েছিল। আমরা শেখ হাসিনার জন্মদিন পালন করছি এজন্যই যে, তার কাছে আমাদের অশেষ দায়, অশেষ ঋণ।

সভাপতির বক্তব্যে যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জন্ম না নিলে আমরা আজ একটা মানচিত্র পেতাম না, একটা পতাকা পেতাম না, জাতীয় সংগীত পেতাম না। তেমনি শেখ হাসিনা জন্ম না নিলে আমরা গণতন্ত্র পেতাম না, সামাজিক ন্যায়বিচার পেতাম না, অর্থনৈতিক মুক্তি পেতাম না, ভোট ও ভাতের অধিকার পেতাম না এবং একটা মর্যাদাশীল দেশ পেতাম না। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে দলকে সুসংগঠিত, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের বিচার করার সংগ্রামে নেমেছিলেন। দলকে সুসংগঠিত করার জন্য তিনি সব দুঃখ-কষ্ট বুকে নিয়ে রাত-দিন পরিশ্রম করে সমগ্র দেশ সফর করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মদিন উপলক্ষে যুবলীগের উদ্যোগে নির্মিত ৭৫টি ‘আমার ভাবনায় রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা’ শীর্ষক ভিডিও চিত্র কয়েকটি অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবন ও কর্মনির্ভর কয়েকটি ভিডিওচিত্র অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি কবি নির্মলেন্দু গুণ বক্তব্যের মাঝে শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা দু’টি কবিতা আবৃত্তি করেন। ndtvbd/news desk


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা