" /> তালেবান খুঁজছে যাদের – নাগরিক দৃষ্টি টেলিভিশন
সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ১০:৩১ অপরাহ্ন

তালেবান খুঁজছে যাদের

1629440860

তালেবান শরিয়াহ অনুসারে আফগানিস্তানে নারী স্বাধীনতার ঘোষণা দিলেও বাস্তবে তাদের প্রতিশ্রুতির মিল পাওয়া যাচ্ছে না। তারা ক্ষমতায় আসায় জীবনঝুঁকিতে পড়েছেন যুক্তরাষ্ট্রে প্রশিক্ষিত পাইলট, নারী বিচারক, সাংবাদিক, যৌনকর্মী ও সংগীতশিল্পীরা। এসব পেশার বহু নারী ইতোমধ্যে আত্মগোপনে গেছেন। তাদের বেশ কয়েকজনকে হত্যা করেছে তালেবান। বাকিদের তন্নতন্ন করে খুঁজছেন তালেবান সদস্যরা।

আফগানিস্তানের নারী বিচারকরা এককালে যাদের কারাদ দিয়েছিলেন, কাবুল পতনের পর বিজয়ী তালেবানের হাতে মুক্ত হওয়ার পর এখন প্রতিশোধের নেশায় ঘুরছেন তারা। জীবনের ভয়ে ভীত দেশটির আড়াইশ নারী বিচারকের কেউ কেউ এরই মধ্যে দেশ ছেড়ে পালাতে পারলেও বেশিরভাগই পারেননি।

১৫ আগস্ট কাবুল দখলের পর তালেবান শরিয়াহ অনুযায়ী নারীর অধিকার সংরক্ষণের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে তার মিল পাওয়া যাচ্ছে না। বিচার বিভাগে কর্মরত নারীরা এরই মধ্যে তাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের দু’জন নারী বিচারককে জানুয়ারিতে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।

ইউরোপে পালানো এক আফগান বিচারক বলেন, ‘এখন তালেবান দেশজুড়ে বন্দিদের মুক্তি দিয়েছে, যা বাস্তবে নারী বিচারকদের জীবনকে বিপদের মধ্যে ফেলে দিয়েছে।’

আফগান মানবাধিকার কর্মী হুরিয়া মোসাদিক বলেন, এসব বিচারক ছাড়াও প্রায় হাজারখানেক নারী অধিকারকর্মীর তালেবানের আক্রোশের মুখে রয়েছেন। তিনি বলেন, ‘মুক্ত হওয়া বন্দিরা নারী বিচারক, আইনজীবী ও পুলিশ কর্মকর্তাদের ফোন করে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে, তারা বলছে, তোমার খোঁজে আসছি আমরা।’তালেবানের ভয়ে আত্মগোপনে গেছেন আফগান নারী ক্রিকেটাররা। এসেল (ছদ্মনাম) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, তালেবানের আফগানিস্তানে নাম প্রকাশ করে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলাও তিনি নিরাপদ মনে করছেন না। তিনি বলেন, ‘আমার মতো যারাই ক্রিকেট বা অন্য কোনো খেলাধুলায় যুক্ত, তারা কেউ এখন আর নিরাপদ নন। কাবুলের পরিস্থিতি এখন মোটেও ভালো না। তালেবান সদস্যরা এরইমধ্যে নারী ক্রিকেট দলের সদস্যদের খোঁজ করতে শুরু করে দিয়েছে।’

গত আগস্টে তালেবানের আগ্রাসনের মুখে আফগান বাহিনীর পিছু হঠার সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রশিক্ষিত ফাইটার পাইলটদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, বিমান নিয়ে উজবেকিস্তানে পালিয়ে যাওয়ার। সে সময় পার্শ্ববর্তী ওই দেশটিতে যুদ্ধবিমানের কমপক্ষে ৪৬৫ পাইলট আশ্রয় নিয়েছিলেন। এখন তাদের দেশে ফিরিয়ে দিতে যাচ্ছে দেশটি। এতে মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছেন এসব পাইলট। তাদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, ‘উজবেকিস্তান আমাদের তালেবানের কাছে হস্তান্তর করলে তারা কাউকে ছাড়বে না। সবাইকে হত্যা করবে তারা।’

তালেবান ক্ষমতা দখলের পর সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন আফগান নারী সাংবাদিকরা। বর্তমানে দেশটিতে সবচেয়ে জনপ্রিয় টোলো নিউজটির সম্প্রচারমাধ্যম চলছে। তবে তার ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ টিভির পরিচালক লুতফুল্লাহ নাজাফিজাদা বলেন, তালেবানের উত্থানের কারণে আমাদের সম্প্রচার চালিয়ে যাওয়া বা বন্ধ করা নিয়ে খুব খারাপ পরিস্থিতিতে পড়েছি। তারা জনবল সংকটে পড়েছে। তবে তালেবান তাদের সম্প্রচার চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়ায় উভয় সংকটে পড়েছে তারা।

ndtvbd / news desk


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা