" /> 'সাহসী' সিদ্ধান্তে তামিম প্রশংসিত 'কলিজা ওয়ালা খান – নাগরিক দৃষ্টি টেলিভিশন
বুধবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন

‘সাহসী’ সিদ্ধান্তে তামিম প্রশংসিত ‘কলিজা ওয়ালা খান

ইকবাল

 তামিম ইকবাল খান, মাশরাফি বিন মুর্তজা লিখেছেন- ‘কলিজা ওয়ালা খান।’ সচরাচর সাহসের প্রতিশব্দ হিসেবে ব্যবহৃত ‘কলিজা’ তামিমের বদলে

উচ্চারিত হলো সংগত কারণেই। তাকে আসন্ন টি২০ বিশ্বকাপের স্কোয়াডে রাখা হবে কি হবে না ইস্যুতে যখন বোর্ডকর্তা, নির্বাচক ও টিম ম্যানেজমেন্ট পর্যায়ে পক্ষে-বিপক্ষে তুমূল আলোচনা, তখন ‘ডাউন দ্য উইকেটে’ এসে তামিমই সপাটে তাড়িয়ে দিলেন সব দ্বিধা-সংশয়। বললেন, বিশ্বকাপে তিনি খেলতে চান না।

বিগত সিরিজগুলোয় তার অনুপস্থিতিতে যেসব তরুণ ওপেনিং করেছেন, বিশ্ব আসরে খেলা তাদেরই প্রাপ্য বলে মনে করছেন বাঁহাতি এ ব্যাটসম্যান। এভাবে নিজ থেকে বিশ্বকাপের মতো বড় আসর থেকে সরে গিয়ে তামিম উদাহরণ তৈরি করেছেন, দেখিয়েছেন অমিত সাহস- এমনই ভাষ্য ফুটে উঠেছে মাশরাফিসহ ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে।

বুধবার দুপুরে ফেসবুকে ভিডিওবার্তায় তামিম তার বিশ্বকাপ খেলতে না চাওয়ার পেছনে দুটি কারণ তুলে ধরেছেন। একটি ইনজুরি, অন্যটি খেলার মধ্যে না থাকা, ‘একটা কারণ ইনজুরি। কিন্তু আমার মনে হয় না ইনজুরি বড় সমস্যা। আমি আশা করি বিশ্বকাপের আগেই ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত (বিশ্বকাপে না খেলা) নিতে যে ব্যাপারটা বড় ভূমিকা রেখেছে, সেটি হলো- যেহেতু আমি সর্বশেষ ১৫-১৬টি টি২০ খেলিনি, এই সময়টায় আমার জায়গায় যারা খেলছিল, আমার মনে হয় না এটা ফেয়ার হবে তাদের প্রতি, যদি আমি হঠাৎ করে এসে তাদের জায়গাটা নিয়ে নিই।’তামিম বাংলাদেশ দলের হয়ে সর্বশেষ টি২০ খেলেছেন ২০২০ সালের মার্চে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। এরপর থেকে চোট, ছুটিজনিত কারণে আর কোনো সিরিজে খেলতে পারেননি। শুধু বিগত দেড় বছরই নয়, ৩২ মাস ধরেই টি২০-তে অনিয়মিত তামিম। এই সময়ে বাংলাদেশ দল ২২টি ম্যাচ খেললেও তামিম খেলতে পেরেছেন মাত্র ৩ ম্যাচে। এ বছরের মার্চে অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান নিজেই ইঙ্গিত দেন ক্রিকেটের তিন সংস্করণের যে কোনো একটি তিনি ছেড়ে দিতে পারেন। স্ট্রাইক রেট নিয়ে নিয়মিত প্রশ্ন ওঠে বলে ছাড়তে চাওয়া ফরম্যাটটা টি২০ বলে গুঞ্জন ওঠে তখন। এমনকি সাম্প্রতিক সময়ে তার বিশ্বকাপ দলে থাকা বিষয়ক জিজ্ঞাসায় কোচ রাসেল ডমিঙ্গো চুপ থাকলে গুঞ্জন আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

তবে একই সমান্তরালে ছিল তাকে দলভুক্ত করার আলোচনায়। বিশেষত অভিজ্ঞতার কারণে। তবে প্রশ্ন ওঠে- তামিমকে অন্তর্ভুক্ত করতে গিয়ে বাদ দেওয়া কাকে? সাম্প্রতিক সিরিজগুলোয় বাংলাদেশ দলের হয়ে ওপেন করেছেন নাঈম শেখ, লিটন কুমার দাস, সৌম্য সরকার ও মেহেদী হাসানরা। এদের যে কোনো একজনকে বাদ দেওয়ার যৌক্তিকতা আর তামিমের অভিজ্ঞতাকে মূল্যায়নের বিষয়টি বিপরীতমুখী হয়ে ওঠায় নীতিনির্ধারক মহলে দেখা দেয় দ্বিধা, সংশয়। এমন দ্বান্দ্বিক পরিস্থিতির অবতারণা অবশ্য আগেও হয়েছিল। ওইসব ক্ষেত্রে ঝুঁকি বা সাহস নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বোর্ডকে।

তবে এ বেলায় আর সংশ্লিষ্টদের ‘জটিল’ পরিস্থিতিতে পড়তে দেননি তামিম। বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিয়ে নিজেই তৈরি করলেন অনন্য দৃষ্টান্ত। বিশ্বকাপের জন্য জায়গা ছেড়ে দিলেন তরুণদের জন্য।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


ফেসবুকে আমরা